দিনাজপুরে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নামে করা কলেজের নাম পরিবর্তন করার অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলা খারিজের পর মানহানির মামলাটিও খারিজ করে দিলেন বিচারক।
সোমবার বিকেল ৩টায় দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-২ এর বিচারক মো. লুৎফর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর নামে করা কলেজের নাম পরিবর্তনের মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৮ ধারায় খারিজ করে দেন।
সরকারি এপিপি মিন্টু পাল জানান, দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সদস্য অজিবুল ইসলাম দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-২ এ পৃথক দুটি আবেদন করেন।
বৃহস্পতিবার আবেদন দুটির ওপর অভিযোগকারী অজিবুল ইসলামের ২০০ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর নামে করা কলেজের নাম পরিবর্তনের অভিযোগটি (অভিযোগ নং-২৪৪/১৭, ২০০১ সালের ৪ ধারা) স্বেচ্ছায় প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
পরে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. লুৎফর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৮ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন।
মিন্টু পাল জানান, ২০০১ সালের এ আইনটি ২০০২ সালে বাতিল করা হয়েছে। ফলে এর আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।
একই বাদী বঙ্গবন্ধুর মানহানি ঘটানোর অভিযোগ তুলে আরও একটি আবেদন করেন (যার নং-সিআর ২৪৫/১৭ ধারা ৫০০/৫০১)। বিচারক এই মামলাটির আদেশের জন্য ২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। বাদীর জবানবন্দি পর্যালোচনা করে বিচারক মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল জানান, পলাশবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণের বিষয়ে আমি ডিও লেটার দেই। বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্টে অনুমতি না পাওয়ায় কলেজের ম্যানেজিং কমিটি পরে অন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু, এ ব্যাপারে অবগত ছিলাম না। মামলা খারিজের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বাদী কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আদালতে উত্থাপন করেছিলেন।
এ মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. হবিবর রহমান জানান, অভিযোগ দুটি বাদী প্রত্যাহার করে নিয়েছে জানতে পেরেছি। তা ছাড়া আদালতে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা সঠিক ছিলনা। কারণ কলেজটি ২০০৩ সালে পলাশবাড়ী আদর্শ মহাবিদ্যালয় হিসেবে স্থাপিত হয়।
এরপর ২০০৯ সালে পাঠদানের অনুমোদন পায়। এরপর ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে বঙ্গবন্ধু আদর্শ মহাবিদ্যালয় নামকরণ করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপালের সম্মতিসূচক ডিও লেটাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করা হয়। কিন্তু ওই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হবে না বলে কলেজের আবেদন নামঞ্জুর করে বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট। ফলে বঙ্গবন্ধুর নামে ওই কলেজের নামকরণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কলেজটি ২০১৩ সালে পলাশবাড়ী আদর্শ মহাবিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। এরপর কলেজ পরিচালনা কমিটি কলেজটির উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে ২০১৫ সালে কলেজের নাম পলাশবাড়ী এমএস গোপাল মডেল কলেজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে এমপি সাহেবের সম্মতি ছিলনা। তারপরও সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী কলেজ কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করেন।
২০১৬ সালের প্রথম দিকে কলেজটি পলাশবাড়ী এমএস গোপাল মডেল কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কাজেই বঙ্গবন্ধুর নাম কাটার কোনো প্রশ্নই উঠেনা। তা ছাড়া কলেজ পরিচালনার সঙ্গে এমপি সাহেবের কোনো সম্পর্ক নেই। যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে। কেউ বাদীকে প্রভাবিত করে রাজনৈকিত ফায়দা নেয়ার জন্য এই মামমলা করিয়েছিলেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/এমএস