টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার পূজামণ্ডপে বরাদ্দকৃৃত চাল উত্তোলনে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪০ পয়সা করে ঘুষ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবছর মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ২২০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭টি মণ্ডপে সার্বজনীন এবং ৫৩টি মণ্ডপে ব্যক্তিগত পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সরকার ১৬৭টি সার্বজনীন পূজামণ্ডপের জন্য ৫০০ কেজি করে ৮৩ টন চাল বরাদ্দ দেন। আতব চাল মির্জাপুরে খাওয়ার রীতি না থাকায় মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ওই চাল বিক্রি করে দেন।
ব্যবসায়ীরা ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় প্রতি মণ্ডপের চাল ক্রয় করেন। এভাবে ব্যবসায়ীরা ১৪০টি মণ্ডপের প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ব্যবসায়ীরা ক্রয়কৃত ওই চাল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করতে গেলে গুদামের কর্মকর্তার চাহিদা মতো ঘুষ না দেয়ায় কর্মকর্তা চাল আটকিয়ে দেন। পরে ব্যবসায়ীরা তার চাহিদামতো প্রতি টনে এক হাজার ৪০০ টাকা করে দিয়ে চাল উত্তোলন করেন।
মির্জাপুর খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিবার উদ্দিন জানান, তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত চাল গুদাম থেকে বের করতে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে প্রতি টনে ১ হাজার ৪০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। টাকা না দেয়ায় তিনি চাল বের করতে দেননি। আমারা ২৮ জন ব্যবসায়ী টানা ১০/১২দিন পরিশ্রম করে ক্রয়কৃত চাল অন্যত্র বিক্রি যে টাকা পেয়েছি তাতে একজন দিনমজুরের সমান টাকাও পায়নি।
খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাল উত্তোলনে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কত টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো টাকা নেননি। পরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিবার উদ্দিন তার উপস্থিতিতেই খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা প্রতি টনে ১৪০০ টাকা নিয়েছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মির্জাপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, কে আমাকে টাকা দিয়েছেন। আমাকে টাকা দিলে আমি টাকা নেব। এখন পর্যন্ত আপনি টাকা পাননি জানতে চাইলে নিরোত্তর থাকেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কনক কান্তি দেবনাথ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এস এম এরশাদ/এএম/আরআইপি