অদম্য মেধাবী আহসান হাবীব। অভাবের শেষ নেই। টিউশনির টাকায় পড়াশুনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না।
লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হক ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে আহসান হাবীব পাচঁ ভাই দুই বোনের মধ্যে মেজ। ৭ বছর আগে বাবাকে হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। নবম শ্রেণি থেকে টিউশনি করে সাংসার আর নিজের পড়াশুনার খরচ চালিয়ে আসছে হাবীব। আজ এমন সাফল্য এলেও অর্থের অভাবে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালেয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে তাকে।
হাবীব এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'খ' ইউনিটে ২৫৬৫তম মেধা তালিকায় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'খ' ইউনিটে ১১৯৮তম মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। জীবনে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন তার। কিন্তু তাতে বাধা শুধু দরিদ্রতা। তাই সমাজের বিত্তবানদের একটু সহযোগিতা পেলে পাল্টে যাবে হাবীবের জীবন।
কথা হলে আহসান হাবীব জানায়, অভাবের মাঝে অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করি। এইচএসসিতে ভর্তি ও বই কেনার টাকা সংগ্রাহ করতে ঢাকার ঘোড়াশাল এলাকায় ২৬ দিন ধান কেটেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আবারও সেই একই পরিস্থিতিতে পড়েছি। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি যেন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি।
হাবীবের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, মানুষের বাসায় কাজ করে তিন ছেলেকে পড়াশুনা করাচ্ছি। অনেক কষ্টে চলছে আমাদের সংসার। তাই ছেলেকে ভর্তি করার জন্য কেউ যদি সাহায্য করে তাহলে আমার ছেলে পড়াশুনা করতে পারত।
পারুলীয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অনিল চন্দ্র রায় বলেন, হাবীব দরিদ্র ঘরের ছেলে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলে তার স্বপ্ন পূরণ হবে। তার সাহায্যের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
রবিউল হাসান/এফএ/এমএস