দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম চললেও নিজস্ব ভবন এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্মিত ভবনটি আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। ভবনটিতে পুরোদমে কাজ শুরু হলে সরকারের প্রতি বছরে রাজস্ব সাশ্রয় হবে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের মার্চে ফেনী শহরের মহিপাল সংলগ্ন সার্কিট হাউজ সড়কের পাশে ৩৩ শতক জায়গায় নতুন পাসপোর্ট অফিসের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব পান মিনিমাইজ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। দেড় বছরের মধ্যে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়ার চুক্তি করে গণপূর্ত বিভাগ। ওই চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী আগামী মাসে ভবন বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও আরও দুই-তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নুরুল করিম মিলু। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনটির তিন তলা নির্মাণ কাজের ৯০শতাংশ শেষ হয়েছে। কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করতে প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে।সূত্র আরও জানায়, নোয়াখালী থেকে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম ফেনী আনা হয়। শহরের পাগলা মিয়া সড়কের ভাড়া বাসায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ অফিসটির কার্যক্রম শুরু হয়। খানাখন্দ সড়ক ও আউট এরিয়া এলাকায় হওয়ায় অফিসটিতে যেতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন দূর-দূরান্ত থেকে আসা গ্রাহকরা। প্রতিদিন অফিসটিতে আবেদন জমা পড়ে ১শ থেকে ২শতাধিক। মাসে ৪০ হাজার টাকা হারে বছরে ভবন ভাড়া পরিশোধ করতে হয় ৪ লাখ ৮০ টাকা। নতুন ভবন চালু হলে সরকারের এ দফতরটির সাশ্রয় হবে উল্লেখিত টাকা। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজলভ্য হওয়ায় সুবিধাভোগী মানুষদের ভোগান্তি কিছুটা কমে আসবে। তবে দালালদের দৌরাত্ম নিয়ে এখনও শঙ্কা কাটছে না।ফেনীস্থ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মো. শামীম জাগো নিউজকে বলেন, শিগগিরই তিনি গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে ভবনটি বুঝে পাবেন। এতে করে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।জহিরুল হক মিলু/এমজেড/আরআইপি