দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া সড়কের অধিকাংশ স্থান খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্নস্থানের সৃষ্ট খানাখন্দে সড়কে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সৃষ্ট গর্তের কারণে মাঝেমধ্যেই সড়কে বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন আর চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়কে চলাচলকারী মানুষরা।
এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার। কিন্তু সড়ক ও জনপদ বলছে অতিবৃষ্টির কারণেই সড়কের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে এই সড়কের স্থায়ী কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে জেলা শহরের নতুন বাজর মুরগির খামার পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কে যেন ভোগান্তির শেষ নেই।
এছাড়া সড়কের জেলার শেষ সীমানা পাংশা পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে ছোট-বড় গর্ত, এবড়োথেবড়ো ও উঁচু-নিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যার বেশির ভাগ স্থানে বিটুমিন ও খোয়া-পাথর উঠে গেছে।
এ কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়াসহ অনেক সময় ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা । সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোনো রকম সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখার জন্য অনেক স্থানে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন। তীব্র রৌদের সময় ভাঙা সড়কে আরেক ভোগান্তি ধুলা-বালু। যানবাহন চলাচলের সময় ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
সড়কে চলাচলকারী একাধিক চালকরা জানান, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় থেকে চন্দনী পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। পুরো রাস্তাজুড়েই ছোট-বড় গর্ত, তাই তাদের যানবাহন চালাতে অনেক সমস্যা হয়, তাছাড়া ভাঙা ও গর্তের কারণে যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে।
বহুদিন ধরে রাস্তার এমন অবস্থা থাকলেও কোনো উন্নতি দেখছেন না তারা। যেসব স্থানে একে বারেই চলাচলের অনপযোগী হয়ে গিয়েছিল, সেসব স্থানে ইট-বালু দিয়ে কোনো রকম চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। কিন্তু সেটা স্থায়ী না। যানবাহন চলাচলের স্বার্থে তারা স্থায়ী সমাধান চান।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আহলাদীপুর-রাজবাড়ী-পাংশা-কুমারখালী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং বাগমারা-জৌকুড়া ফেরিঘাট সংযোগ সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতিকরণ করা হবে। যার কাজ এ বছরেই শুরু হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভারি বর্ষণে রাস্তার ওপরের বিটুমিন ও পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি কমাতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট ও বালু দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করে চলার উপযোগী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রুবেলুর রহমান/এএম/আইআই