জনবল সঙ্কট, অর্থাভাব ও দ্রুতগতির নৌযানের অভাবে বরগুনায় বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীতে মা-ইলিশ রক্ষায় জোরালভাবে টহল দিতে পারছে না বরগুনার মৎস্য বিভাগ। এ সুযোগে অসাধু জেলেরা শিকার করছেন মা-ইলিশ। এতে মা-ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভেস্তে যেতে বসেছে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের এ মহৎ উদ্যোগ।
আশ্বিন মাসের মধুপূর্ণিমার আগের তিনদিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন মা-ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজননকাল চিহ্নিত করেছেন মৎস্য গবেষকরা। তাই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু জনবল সঙ্কট, অর্থাভাব ও দ্রুতগতির নৌযানের অভাবে বরগুনার মৎস্য বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
পাথরঘাটা উপজেলার ট্রলার মালিক মো, আফজাল হোসন জানান, এ বছর জোরাল টহলের আওতার বাহিরে রয়েছে বলেশ্বর নদী ও বঙ্গোপসাগেরর মোহনার বিস্তীর্ণ এলাকা। ফলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও প্রতিদিন মা ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। এসব মাছ অনেকটা প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না মৎস্য বিভাগ।
বলেশ্বর তীরের জেলে আসলাম জানান, ট্রলারে করে মৎস্য বিভাগ টহল দিলেও অনেক সময় তাদের উপস্থিতিতেও মা ইলিশ শিকার করছেন অসাধু জেলেরা। দ্রুত গতির নৌযান না থাকায় তাদের আটক করতে পারছে না মৎস্য বিভাগ। এছাড়াও গত বছরের তুলনায় এ বছর মৎস্য বিভাগের জোরাল টহল নেই বলেশ্বর নদীতে। এ সুযোগে প্রতিদিনই মা ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। বিষয়টি মৎস্য বিভাগ অবগত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তাফা চৌধুরী বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর মা ইলিশ রক্ষার জন্য মৎস্য বিভাগের জোরাল টহল না দেয়ার কারণে ইলিশের উৎপাদন চরমবাবে ব্যাহত হবে। ফলে জেলেদর আবারও দুর্দিন দেখা দেবে। গত বছর অধিক পরিমাণে মা ইলিশ রক্ষার কারণে জেলদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়েছিল। এর ফেলে ইলিশের দাম যেমন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিল, তেমনি ট্রলার মালিক ও জেলেরাও লাভবান হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এ বছর মা ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম অনেকটা নাজুক প্রকৃতির। এর ফলে ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হবে। দাম বেড়ে যাবে ইলিশের। লোকসান গুনতে হবে ট্রলার মালিকদের। জেলেদের জীবনেও নেমে আসবে আবারও দুর্দিন।
বিষয়টি স্বীকার করে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন প্রামাণিক বলেন, মা ইলিশ রক্ষার অভিযান পরিচালনার জন্য আমাদের অর্থের অভার বয়েছে। রয়েছে জনবল সংকটও। তারপরও আমার আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে মা ইলিশ রক্ষার জন্য দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত জেলার পায়রা, বলেশ্বর, বিষখালী ও বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই ৮৮ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অপরাধে আটকের পর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে ১০ জেলেকে। আার জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ৩৬৯ কেজি মা ইলিশ উদ্ধার করে স্থানীয় এতিমখানায় বিলিয়ে দেয়া হয়েছে।
জনবল সংকট, অর্থাভাব ও দ্রুত গতির নৌযানের অভাবে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
সাইফুল ইসলাম মিরাজ/আরএআর/আরআইপি