সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের বিরুদ্ধে এক গৃহকর্মীকে (৩০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহকর্মী বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে আসামি করে রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
অন্য দুই আসামি হলেন- ওই গৃহকর্মীর প্রেমিক ফরিদুল ইসলাম (৩৩) ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগী মকবুল হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের বাসাইল গ্রামের ওই নারী (৩০) তার স্বামী মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন সিরাজগঞ্জ-পাবনা সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা বেগম স্বপ্নার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। কিছুদিন আগে এমপি হজ পালনের জন্য মক্কায় যান। এ সময় ওই গৃহকর্মীর সঙ্গে বাসাইল গ্রামের সোলেমান হোসেনের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৩) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয়ই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এছাড়াও ওই গৃহকর্মীর কাছ থেকে প্রেমিক ফরিদুল ৪০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নেন। সেই ধারের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ফরিদুল তার নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় সোনাখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রিপন ও তার সহযোগী মকবুল হোসেন ওই গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করেন। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা বিচারের আশ্বাস দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেন। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ওই গৃহকর্মী বাদী হয়ে রোববার (১৫ অক্টোবর) সকালে তিনজনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের আইনজীবী শাহ আলম ডেভিড বলেন, মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/আরআইপি