দেশজুড়ে

ডুবে গেছে রাস্তা-ঘাট, রয়েছে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

 

বাগেরহাটের কচুয়ায় রাস্তার ওপর গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায়। বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙায় উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া বিদ্যুতের দুইটি খুঁটিতে তিনটি ট্রান্সফরমার ছিল। শনিবার সকালে উপজেলার সাইনবোর্ড-কচুয়া আঞ্চলিক সড়কের খলিশাখালি নামক স্থানে একটি মেগনি গাছ রাস্তার ওপর উপড়ে পড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিকেলে রাস্তা থেকে গাছ অপসারণসহ কচুয়া পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা সংযোগ পুনঃস্থাপনের পর সেখানকার অধিকাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

শনিবার বিকেলে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কচুয়ার লাইনম্যান ফারুক বলেন, দুটি খুঁটি ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাগেরহাট থেকে খুঁটি ও ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। আমরা খুঁটি ও ট্রান্সফরমার লাগিয়ে সংযোগ দেব। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ছোট লাইনগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রধান প্রধান এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, উপকূলজুড়ে অবিরাম বৃষ্টিতে বাগেরহাট জেলা প্লাবিত হয়েছে। জেলার নিম্নাঞ্চলসহ শহরও ডুবে রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাগেরহাটের খেটে খাওয়া মানুষ।

দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়, লোকাল বোর্ডঘাট, মেইনরোড, বাসাবাটি, রেলরোড, আলিয়া মাদরাসা রোড, খারদ্বার মোড়, ভিআইপি রোড, মিঠাপুকুরপাড়, সাহাপাড়া, দশানি শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়ক, বালিকা বিদ্যালয় সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে রয়েছে।

একই অবস্থা বাগেরহাটের নয়টি উপজেলার। অবিরাম বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মংলা ও রামপাল উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য মাছের ঘের। সেই সঙ্গে আমন ধানেরখেত পানির নিচে তলিয়ে আছে। তবে এ পানি স্থায়ী না হলে আমন ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি অফিস।

এদিকে, মংলা বন্দরে অবস্থান করা জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। বন্দরে বর্তমানে সার, চাল, কন্টেইনার, এলপিজি গ্যাসসহ মোট ১০টি জাহাজ অবস্থান করছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে বর্তমানে নষ্ট হওয়ার মত কোনো ফসল এখন মাঠে নেই। বরং এই বৃষ্টিতে রোপা আমনের ধানের উপকার হবে।

শওকত আলী বাবু/এএম/আরআইপি