দেশজুড়ে

ভাসমান নৌকা থেকে লেবু যাচ্ছে সারা দেশে

ভেজাল আর ফরমালিনযুক্ত ফল এখন হাতের কাছেই। তাই এসব ফলের জুস বা শরবত না খেয়ে উপায় কি? কিন্তু রমজানের ইফতারে এক গ্লাস খাঁটি লেবুর শরবতের জুড়ি নেই। আর তা যদি হয় কাগজি লেবু তাহলেতো কথাই নেই। ভিটামিন `সি` যুক্ত রসালো এই লেবুর ঘ্রাণে ভরে গেছে ঝালকাঠির ২২ গ্রাম। তাই লেবু মৌসুমে জমে উঠেছে ঝালকাঠির ভিমরুলীতে নৌকায় ভাসমান লেবুর হাট। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ কাগজি লেবু কেনা বেচা হচ্ছে। এখান থেকে পাইকাররা লেবু কিনে নিয়ে ডিঙ্গী নৌকায় ঝালকাঠি বরিশাল আড়তে এনে বিক্রি করছেন। সেখান থেকে সড়ক পথে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।ঝালকাঠির বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, কাফুরকাঠি, আটগড়, গাভারামচন্দ্রপুর, পোষণ্ডা, ডুমুরিয়া, খেজুরা, কির্ত্তীপাশা, মিরাকাঠিসহ ২২ গ্রাম এখন লেবুর ঘ্রাণে ভরপুর। প্রতিদিন এসব গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করে নৌকায় স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে নিয়ে আসছে। এখানে অপেক্ষমান পাইকাররা নৌকায় বসেই কৃষকের লেবু কিনে রাখছেন নৌকা থেকে। একদিকে নৌকায় লেবুর হাট অন্যদিকে পানির উপরে সবুজের সমারহ দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। গত বছরের তুলনায় এবার লেবুর ফলন একটু কম হওয়ায় দাম বেশি। গত বছর ১ পোন (৮০টি) লেবু ছিল ৮০ থেকে ১শ টাকা। এবার তা বিক্রি হচ্ছে দেড়শ টাকায়। এসব গ্রামের কৃষকরা কাঁদি কেটে লেবুর চাষ করছেন যুগ যুগ ধরে। এক একটি কাঁদি ১০০ থেকে ১১০ হাত লম্বা এবং ৭/৮ হাত চওড়া হয়। প্রতিটি কান্দিতে ২২টি গাছ লাগানো যায়। এরকম ১ বিঘার কাঁদিতে লেবু চাষ করতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। ফল ধরার পরে প্রতি বছর লেবু বিক্রি করে দেড় থেকে দু`লাখ টাকা পাওয়া যায়। এ হিসেবে ২২ গ্রামের লেবু বিক্রি করে প্রতি বছর কৃষকরা আয় করছেন দেড় থেকে ২ কোটি টাকা। ভিমরুলী গ্রামের লেবু চাষী মানিক মজুমদার জাগো নিউজকে জানান, একবার লেবু গাছ লাগানোর পর তা একাধারে ২০/২৫ বছর ফলন দেয়। বছরে ৩ বার ফল আসে। ঝালকাঠির এ কাগজি লেবুর কদর ও সরবরাহ হয় ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারিপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আমরা ফলন ধরার পর দু’ভাবে লেবু বিক্রি করে থাকি। স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে নৌকায় অপেক্ষমান পাইকারদের জন্য। এছাড়াও গাছে ফল আসার পর পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করি এককালীন নগদ টাকায়। এরপর কলম ও বিচির মাধ্যমে আমরা নিজেরাই চারা তৈরি করি। শতদশকাঠির লেবু চাষি সুভাষ ও অতুল হালদার জাগো নিউজকে জানান, আমরা সহজ শর্তে ঋণ পেলে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে লেবু চাষ আরো সম্প্রসারণ করতে পারি। কিন্তু তা পাচ্ছিনা। সরকার কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার কথা শুনছি কিন্ত তার সুফল আমাদের ভাগ্যে জোটে না। তাই চড়া সুদে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এমজেড/পিআর