মেহেরপুরে ১৮১ গ্রামের টিউবয়েলে পাওয়া গেছে আর্সেনিকের অস্তিত্ব। এর মধ্যে ৪১টি গ্রামে অতিমাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেছে শত শত মানুষের। মৃত্যুর প্রহর গুনছেন অনেকেই। চিকিৎসকরা বলছেন দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে লিভার ও কিডনি ড্যামেজসহ ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে।
মেহেপুরের সিভিল সার্জন জি.কে.এম সামসুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, জেলায় আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। অথচ ২০০৭ সালের পর থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে সরবরাহ নেই কোনো ওষুধের। দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করায় প্রথমে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরে সেখান থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানালেন এই চিকিৎসক।
আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের সুখজান বেগম। পচন ধরায় কেটে ফেলতে হয়েছে বাম পায়ের গুড়ালি পর্যন্ত। বিছানায় সারতে হয় তার দৈনন্দিন কাজ। গেল এক দশকে আর্সেনিকের ভয়াল থাবায় হারিয়েছেন তার স্বামী, মেয়ে ও ননদকে। আর এক মেয়ে আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ায় ছাড়তে হয়েছে স্বামীর সংসার। শুধু সুখজানই নয় জেলায় আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে হাত-পা হারাতে হয়েছে জেলায় আর্সেনিকে আক্রান্ত ১৮১ গ্রামের অনেককে। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে কেউ কেউ।
এদিকে এলাকাগুলো ঘুরে জানা যায়, আর্সেনিকের ভয়বহতা বাড়লেও বাড়েনি নিরাপদ পানির সরবরাহ। বিদ্যুৎ জটিলতা ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে বেশিরভাগ প্লান্ট এখন অকেজো। কয়েকটি গ্রামে আবার লম্বা লাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয় পানি।
বাংলাদেশ এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের কান্ট্রিডিরেক্টর সাসিহ সুছিমা জানান, বাজেটে বিশুদ্ধ পানির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করা হয় না। দেশে ১৯ লাখ মানুষ আর্সেনিকের ঝুঁকিতে রয়েছে। এজন্য দরকার সরকারের সঠিক পরিকল্পনা। সঠিক পদক্ষেপ নিলে জাইকা, ইউএসএইডসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা এগিয়ে আসবে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। মেহেরপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল কবীর ভুইঞা জানান, সরকারিভাবে দেওয়া প্লান্টগুলো যাতে আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বসানো হয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে জনস্বাস্থ্য বিভাগ।
আসিফ ইকবাল/এফএ/এমএম