দেশজুড়ে

ফুলগাজীতে ঢলের পানিতে ৬ গ্রাম প্লাবিত

তিনদিনের অবিরাম বৃষ্টি আর ভারতীয় পাহাড়ি পানির ঢলে ফেনীর পরশুরাম-ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী ও কহুয়া নদীর ভাঙনকৃত ছয়টি স্থান দিয়ে পানি ঢুকে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বানের পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, ডুবে গেছে আমন বীজ তলা, চলাচলের অনোপযোগী হয়ে গেছে উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগসহ গ্রামীণ জনপথ।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত তিনদিনের লাগাতার বৃষ্টি আর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি পানির তোড়ে মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনিয়া নদীর বাঁধের ছয়টি পয়েন্টে ভেঙে গেছে।

ভাঙা অংশগুলো হলো- দেড়পাড়া, নীলক্ষ্মী, গোসাইপুর সাহাপাড়া, ঘনিয়ামোড়া, দৌলতপুর। বানের পানিতে ডুবে গেছে বসতবাড়ি পুকুরের মাছ, আমন বীজসহ নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সম্পদের পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার জনজীবনে নেমে এসছে চরম দুর্ভোগ। অনেক এলাকায় বানের পানি ঘরে ঢুকে যাওয়ায় রান্নার চুলা জ্বলেনি অধিকাংশ ঘরে। বৃষ্টি সামান্য বন্ধ হওয়ায় বন্যার পানি ভাটিতে নামতে শুরু করলেও এখনও ভোগান্তি কাটছে না এলাকাবাসীর।

বন্যাদুর্গতদের মাঝে সময়মত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। নীলক্ষ্মী বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দেখা মেলেনি দুর্যোগকালীন সময়ে।

দেড়পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, তিন মাস আগে বাঁধ ভেঙে তিনশ ফুটের বেশি ভাঙন তৈরি হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন মেরামত না করায় আবার পানি ঢুকে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যা।

বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ ত্রাণ সমগ্রী চাইছে না। তারা চাইছে বাঁধের সঠিক ও যথাযত মেরামত করে ভবিষ্যতে বন্যার হাত থেকে যেন এলাকাবাসী রক্ষা করা হয়।

প্রতি বছর বাঁধের একই স্থানে বা এর আশেপাশে ভেঙে যাচ্ছে। বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভাঙা বাঁধ মেরামত করা হয়ে থাকে। আবার বানের পানিতে বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বন্যাকবলিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ফেনী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর তিন বারের বন্যায় পুকুরের পাড়সহ অবকাঠামা ভেঙে পোনাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে মৎস্যচাষিসহ সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম জাগো নিউজকে বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পরপরই ভাঙা বাঁধ মেরামত করা হবে।

জহিরুল হক মিলু/এএম/আইআই