জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পুন্ড্র ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি দখল করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করানোর অভিযোগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘের (টিএমএসএস) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগমসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া জেলার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন পুন্ড্র ইউনিভারসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী।
বিচারক শ্যামসুন্দর রায় মামলাটি আমলে নিয়ে বগুড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন, শাফি পারভেজ, কাওছারুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, আহম্মদ শরীফ, আব্দুল মান্নান সরকার, শাহাদুল আলম, এম. এইচ. এম শাহজাহান তরু, আবু বাছির তালুকদার, কায়ছার পারভেজ কল্লোল, খলিলুর রহমান, আব্দুল মালেক, আজাহার আলী, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, রেজাউল করিম এবং আব্দুল আলিম।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম ও অন্যান্যদের পুন্ড্র ইউনিভারসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদনের পর ২০০৬ সালে অনাকাঙ্খিত কারণে তৎকালীন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনটি স্থগিত করে। সেই সময় হোসনে আরা টিএমএসএস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন লাভের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। হাই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এর সঙ্গে বাদী গোলাম রব্বানীর দূরত্ব দেখা দিলে বাদী এ বিষয়ে হাইকোর্টে ৬৫১৭/২০১৩ নং একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। পরে হাই ফাইন্ডেশন থেকে পুন্ড্র ইউনিভারসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রাস্ট গঠন করে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস ঢাকা হতে এস-২৫৮৯ নম্বর রেজিস্ট্রেশন করেন। যা ০৬-০৪-২০১৩ হতে কার্যকর হয়। এই সুযোগে টিএসএসএস এর পরিচাল হোসনে আরা তার কিছু কর্মচারী ও প্রতিনিধি নিয়ে ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অন্যায়ভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এবং ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির বিজ্ঞাপন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। ইতোমধ্যে হোসনে আরা যোগসাজস ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির মালিকানা দাবি করে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবৈধভাবে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে কার্যক্রম শুরু করেন।
লিমন বাসার/এমএএস/এমএস