সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক সঠিক রোগ নির্ণয় না করে সুলতানা পারভীন (৩৫) নামে এক রোগীর ভুল চিকিৎসা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুল চিকিৎসার শিকার ওই রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকারা হাসপাতাল থেকে জোড়পূর্বক বের করেও দিয়েছেন। তবে ওই চিকিৎসকের নাম-পরিচয় গোপন রেখেছে হাসপাতাল কর্তপক্ষ।
অপরদিকে ওই রোগীর সঙ্গে থাকা তার ছোট বোন ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা লাভলী খাতুনকেও কর্তব্যরত ওই চিকিৎসকের নির্দেশে সেবিকা ফাতেমা খাতুন, আয়শা সিদ্দিকা, বুলবুলি খাতুন, শিউলী খাতুন, কানিস ফাতেমা ও সোনিয়া লাঞ্ছিত করেছেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো প্রতিকার পাননি রোগীর স্বজনরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মধ্য ভদ্রঘাট গ্রামের সুজাবত আলীর মেয়ে ও ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা লাভলী খাতুনের বড় বোন সুলতানা পারভীন গত ৯ অক্টোবর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ২টার দিকে তাকে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু এ সময় জরুরি বিভাগসহ ৪১৮নং ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেবিকারা তাদের নির্দিষ্ট কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে লাভলী খাতুন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকাদের রুমের দরজায় শব্দ করে ডাকায় ওই চিকিৎসক ও সেবিকারা ক্ষেপে যান। এক পর্যায়ে রোগী সুলতানা খাতুনের সমস্যার কথা শুনে তাকে কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের ৪১৮নং রুমের ২৮নং বেডে ভর্তি করেন।
এ সময় ওই চিকিসক রোগ নির্ণয় না করে রোগীর শরীরে ব্যথার কথা শুনে ব্যথার ওষুধ দেন। ব্যথার ওষুধ রোগীকে খাওয়ানোর পরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু সংজ্ঞাহীন রোগীকে রক্ষা করার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ ডিউটিরত উল্লেখিত সেবিকারা এগিয়ে আসেননি। এভাবেই রাত পোহালে পরের দিন সকাল বেলা আরেক চিকিৎসক রাউন্ডে এসে রোগীকে দেখে এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষা দেয়। কিন্তু ওই চিকিৎসক ১১ অক্টোবর পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখেই রোগীর কিডনি সমস্যাসহ ডায়াবেটিসের মাত্রা ১০% এর ওপরে রয়েছে বলে জানায়।
রোগীর ছোট বোন লাভলী খাতুন বলেন, সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কোনো সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে ভুল চিকিৎসা দেয়ার ফলে ওইদিন রোগীর অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। এদিকে রোগীর অবস্থা অবনতি হওয়ায় কর্তব্য সেবিকাদের আমি ডাকতে গেলে তারা আমার ডাকে সাড়া না দিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেন এবং আমার বোনকে সজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। শেষ পর্যন্ত আমি কোন উপায় অন্ত না পেয়ে আমার বোনকে অজ্ঞান অবস্থায় সিরাজগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করি। সে সময় তার শরীরে মাত্র ৩ গ্রাম রক্ত ছিল। তার কোনো জ্ঞান ছিল না। সেখানে চিকিৎসা দেয়ার দুইদিন পর জ্ঞান ফিরে। পরে তাকে সুস্থ করার পাঁচদিনের মাথায় চিকিৎসক তার অপারেশন সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে বুধবার সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আকরামুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার ব্যাপারে আমাকে কেউ জানায়নি বা অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/আরএআর/এমএস