গত দু`দিনের টানা বর্ষণে পাবনায় জনজীবনে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাবনা শহরের অধিকাংশ এলাকায় হাঁটু পানি জমে গেছে। শহরের নিম্নাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চলে শত শত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া জেলার সব উপজেলাতে শত শত বিঘা ফসলি জমি ডুবে গেছে। পাবনার নগরবাড়ি ঘাট ও বন্দরে পণ্য ওঠানামায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সময়মতো কাজ না করায় এবং ধীরগতির কাজের কারণে অতিবর্ষণে পানি বৃদ্ধির কারণে নগরবাড়িতে ২০০ কোটি টাকার যমুনার তীর রক্ষা প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। নগরবাড়ি বন্দরের বণিক সমিতির নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এএম রফিক উল্লাহ জাগো নিউজকে জানান, গত দু`দিনের টানা বর্ষণে যমুনা নদী তীরবর্তী অনেক স্থানে সংযোগ সড়ক ও বাঁধ কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্দরে পণ্য ওঠানো এবং খালাস করা একরূপ বন্ধের উপক্রম হয়েছে। নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে শত শত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এদিকে সময়মতো কাজ না করায় এবং কাজের ধীরগতির কারণে পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি-নটাকোলা এলাকায় যমুনার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। একটানা বর্ষণে এবং নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নগরবাড়ি ঘাট এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে সময়মতো এবং দ্রুত কাজ না করায় এখন পানি বৃদ্ধির কারণে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে না। আর কাজ না করা গেলে ভাঙন তীব্র হবে। সর্বনাশ হবে এলাকাবাসীর। উল্লেখ্য, নগরবাড়ি ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙন রোধ কল্পে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধীর গতিতে এবং বিচ্ছিন্নভাবে মাত্র ২০ থেকে ৩০ ভাগ কাজ করে কাজ বন্ধ করে রাখেন। কয়েক বছর আগেও এ এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকার কাজের মাত্র ৩০ ভাগ কাজ করে সমুদয় টাকা পাউবোর যোগসাজশে তুলে নেন। এলাকাবাসী জানান, এবারেও কাজ না করে বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এদিকে টানা বর্ষণে পাবনা শহরের শালগাড়িয়া, আক্কেলের সাঁকো, নয়নামতি, সাধুপাড়া, শিবরামপুর, কালাচাঁদপাড়াসহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আখতারুজ্জামান/এমজেড/পিআর