দেশজুড়ে

রাস্তা থেকে ৬ ফুট উঁচুতে কালভার্ট, এক যুগ যোগাযোগ বন্ধ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের বুজরুক পাকুরিয়া গ্রামে বেসরকারি সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) তৈরি করা একটি কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছে মানুষের চলাচল।

ফলে রাস্তা থাকতেও কষ্ট করে পাশের জমির ওপর দিয়ে ও বেশি এলাকা ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। এই অবস্থা একযুগ ধরে চললেও সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেয়নি কেউ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের তিন সহস্রাধিকেরও বেশি মানুষ।

সাদুল্লাপুর উপজেলার এসডিএফের বকসিগঞ্জ ক্লাস্টার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে এসডিএফ গ্রামীণ পর্যায়ে অবকাঠমো নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করেছে। সেই সময় এই কালভার্ট করা হয়।

সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সাদুল্লাপুর-ঠুটিয়াপাকুর সড়কের পাশে বিরাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে কাঁচা রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এরপর কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ রাস্তায় মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়নি। ফলে রাস্তার চেয়ে কালভার্ট প্রায় ছয় ফুট উঁচু হওয়ায় অন্য এলাকা ঘুরে যাতায়াত করছে মানুষ।

অনেকেই আবার ওই কালভার্টের ওপর দিয়েই অন্যের সহযোগিতা নিয়ে কষ্ট করে চলাচল করছে। কালভার্টের দুই পাশের জমিতে ফসল ফলালে মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

বুজরুক পাকুরিয়া গ্রামের কৃষক একরামুল হক আকন্দ বলেন, বর্ষাকালে ওই রাস্তায় পানি জমে থাকতো। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলে মানুষ ভোগান্তির শিকার হতো। পরে এসডিএফের উদ্যোগে ওই স্থানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কে মাটি না দিয়েই কাজ অসম্পূর্ণ রাখা হয়।

ফলে এখন রাস্তার চেয়ে কালভার্টটি উঁচু হয়ে রয়েছে। যার কারণে আমাদের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি দিয়ে উঁচু করার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।

একই গ্রামের কাঠমিস্ত্রি বেলাল হোসেন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় তিন হাজারেরও বেশি মানুষ চলাচল করে। কালভার্টটি নির্মাণের পর রাস্তাটিতে মাটি না ফেলে এসডিএফ কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। রাস্তা থাকতেও অন্য এলাকা ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।

এসডিএফ বকসিগঞ্জ ক্লাস্টার ফ্যাসিলেটেটর সুলতান আহমেদ বলেন, এক সময় এসডিএফ গ্রামীণ পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করতো। সে প্রকল্প অনেকদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই ওই কালভার্টের দুই পাশে মাটি উঁচু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান চৌধুরী শামিম জাগো নিউজকে বলেন, আমি ওই কালভার্টের কথা জানি। নির্মাণের পর কালভার্টের দুই পাশে রাস্তায় মাটি ভরাট না করায় মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী শুকনা মৌসুমে ৪০ দিনের কর্মসূচিতে ওই রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রহিমা বেগম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন যেহেতু জানলাম, আমি খোঁজ খবর নেব। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রওশন আলম পাপুল/এএম/এমএস