দেশজুড়ে

বস্তায় ভরে নির্যাতিত শিশুকে ঢামেকে ভর্তি, আটক ২

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বস্তাবন্দি নির্যাতিত শিশু ফায়েজ হোসেন পিয়াসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোলায়মান।

এ ঘটনায় দুপুরে উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে। তারা হলেন- চরবগা গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে তরিকুল ইসলাম রিফাত (২৫) ও বামনী গ্রামের তৌহিদুর রহমানের ছেলে রাকিব হোসেন (২৩)।

জানা গেছে, ল্যাপটপ থেকে ভিডিও গেমস মুছে ফেলার অভিযোগে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে বস্তায় ভরে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ভূঁইয়ারহাট এলাকায় বস্তার মধ্যে হাত-পা বাঁধা, মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

আহত ফায়েজ হোসেন পিয়াসের বাম চোখ, মুখ ও মাথায় রক্তাক্ত ফোলা জখমের চিহ্ন রয়েছে। আহত পিয়াস বামনী গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক মো. সোহেলের ছেলে।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার চরবগা গ্রামের রিফাতের ল্যাপটপে প্রায় ভিডিও গেমস খেলত শিশু পিয়াস। গত শনিবার তার ল্যাপটপে থেকে একটি গেমস ফোল্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। পিয়াসের বিরুদ্ধে এটি মুছে ফেলার অভিযোগ আনে রিফাত।

এ ঘটনার জের ধরে বুধবার বিকেলে পিয়াসকে একা পেয়ে চকলেট খাওয়ানো লোভ দেখায় রিফাত। একপর্যায়ে ভূঁইয়ারহাট এলাকার কঁচি কাঁচা কিন্টার গার্টেনের একটি কক্ষে আটকে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ভয়-ভীতি দেখায়।

একপর্যায়ে তাকে একটি বস্তায় ভরে মুখ আটকিয়ে দেয়া হয়। পরে পাশের একটি সুপারি বাগানের টয়লেটের কাছে তাকে ফেলে রেখে যায়। সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুজি শুরু করে।

বাগানের দিকে চিৎকার শুনতে পেয়ে হাত বাঁধা, বাম চোখে ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। আহত ফিয়াসকে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা জন্য রাত ১০টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

পিয়াসের বাবা মো. সোহেল বলেন, আমার অবুঝ শিশুকে বস্তায় ভরে নির্যাতন করা হয়েছে। সে বাম চোখ খুলতে পারে না। কোনো সুস্থ মানুষ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটির চোখে-মুখে জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালীতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মানবাধিকার ব্যুরো রায়পুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শিশু সংগঠক এম এ রহিম বলেন, এ ধরনের ঘটনা অমানবিক। কারণ শিশুরা অসহায়। তাদের প্রতি সদয় হওয়ার দায়িত্ব প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে। এ ধরনের জঘন্য ঘটনার কারণে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করে।

জানতে চাইলে রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, এ ঘটনায় দুই যুবকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কাজল কায়েস/এএম/আইআই