২০০৪ সালে ৫ বছর বয়সে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছিল সিংহটিকে। দীর্ঘদিন অবহেলা অনাদরে রুগ্ন শরীর নিয়ে কোনোমতে দর্শনার্থীদের সামনে দাঁড়াতে পারলেও এখন শুয়ে থেকেই মৃত্যুর প্রহর গুনছে সে। চিকিৎসা দিয়েও ওকে আর দর্শনার্থীদের জন্য উপযোগী করা সম্ভব নয় বলে এখন এর স্থান হয়েছে অন্ধকার খাঁচায়। আগে যেখানে যুবরাজের বসবাস ছিল সেখানেই পর্দা টানিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকটা অন্ধকার খাঁচাতেই আমৃত্যু থাকতে হবে যুবরাজকে। শনিবার সকালে অনেক দর্শনার্থী যুবরাজকে দেখতে গিয়ে ফিরে আসেন।
পর্দা ঘেরা যুবরাজের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে কলেজছাত্রী তাহমিনা আক্তার ক্ষোভের সঙ্গে জানান, কুমিল্লার রাজনৈতিক নেতারা কুমিল্লাকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে অনেক গর্ববোধ করেন। কিন্তু আজ এই চিড়িয়াখানার রুগ্ন দশা দেখে আমাদের লজ্জা হয়। একটি প্রাচীন ও বৃহৎ জেলার চিড়িয়াখানার এমন চিত্র কেন থাকবে।
তবে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক জানান, যুবরাজ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে। স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে গেছে। ঠিকমত খেতে পারছে না। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলছে তার আয়ুস্কাল শেষ, তাই এখন এর প্রদর্শন বন্ধ রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ সেলে রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখানার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
গত সপ্তাহে রুগ্ন যুবরাজের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এর চিকিৎসার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু হয় সংশ্লিষ্ট মহলে। মঙ্গলবার বিকেলে রুগ্ন যুবরাজকে দেখতে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন একটি বিশেষজ্ঞ দল। এসময় তারা এয়ার গান দিয়ে ইনজেকশন পুশ করে যুবরাজকে চিকিৎসা প্রদান করেন। এছাড়া অন্যান্য পশু-পাখির খোঁজ খবর নেন।
সেসময় ঢাকা চিড়িয়াখানার ভেটেনারি সার্জন ডা. নাজমুল হাসান জানান, বৃদ্ধ সিংহটি দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর বয়স এখন প্রায় ১৭। এ বয়স সিংহের বার্ধ্যক্যের সময়। তাই সে যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন এর চিকিৎসা ও খাবার দেয়া হবে।
উল্লেখ্য ১৯৮৬ সালে নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশে ১০.১৫ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা। বর্তমানে এ চিড়িয়াখানায় ১টি রুগ্ন ও মৃতপ্রায় সিংহ, বানর ৯টি, বন মোরগ ১টি, অজগর সাপ ১টি, হরিন ২টি এবং ২টি ঘোড়া রয়েছে।
কামাল উদ্দিন/এফএ/জেআইএম