দেশজুড়ে

দেলদুয়ারে ৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৭টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিদ্যালয়ে থাকা একটি ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অলোয়া তারিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারপাখিয়া রথিন্দ্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটিয়া হাজী পাষান উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগ এলাসিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দেলদুয়ার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় রয়েছে ৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলো ১০ থেকে ১৫ বছর আগে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ থেকে নির্মাণ করা হয়েছিল। এ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ সত্ত্বে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে চালাচ্ছেন পাঠদান।

নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৌশল বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কাজগুলো নিম্নমানের হয়েছে। নির্মাণ কাজের সময় নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করায় কাজের গুণগত মান খারাপ হওয়ায় এ বিদ্যালয়গুলো অতি তাড়াতাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন ও অভিযোগে জানা গেছে, নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় বিদ্যালয়ে একটি মাত্র ভবন যার ৩টি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের ভিমের ইট-সুরকী খসে পড়ে রড় বের হয়ে আছে। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করছে পাঠদান। তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মাঝে মধ্যে ওপরের দিকে তাকাচ্ছে। শঙ্কা কখন বা মাথার ওপর খসে পড়ে ইটের টুকরো। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া ওইসব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা রয়েছেন চরম ভীতির মধ্যে।

একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়গুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি এবং তাদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতিটি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকি। কখন যে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়গুলো পুনঃনির্মাণের দাবি তাদের।

এ নিয়ে নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ নুর মোহাম্মদ জানান, বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি মাত্র ভবন। সামান্য বৃষ্টি হলে ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ও প্লাস্টার উঠে গেছে। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রকৌশলী ভবনটি পরিদর্শন করে গেছেন। তিনি ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে পাঠদান না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

জাংগালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শওকত আকবর জানান, এ স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৩৫০ জন। আর শ্রেণিকক্ষ মাত্র ৪টি। অল্পসংখ্যক শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ভাঙ্গা এ টিনের ঘরে ক্লাস নিচ্ছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সমস্ত ঘরে পানি পড়ে এবং ঘরটি অনেক পুরাতন হওয়ায় অনেক সময় কাঠ খসে পড়ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মীর আলী শাকির জানান, কিছুদিন আগে আমি নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনকালে সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। এ উপজেলায় আরও ৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদত হোসেন কবির জানান, পরিদর্শন করে উপজেলার ১৯টি বিদ্যালয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেছি। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরে ৩টি এবং এ অর্থ বছরে ৬টি মোট ৯টি বিদ্যালয় নির্মাণ করার প্রস্তাব এসেছে। বাকি ভবনগুলো অতি তাড়াতাড়ি আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাব।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএএস/জেআইএম