কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভিসি বিরোধী আন্দোলনে এবার ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। ভিসি অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের পদত্যাসহ ১৪ দফা দাবিতে গত ১৫ অক্টোবর থেকে ভিসির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আন্দোলন করে আসছে কুবির শিক্ষক সমিতি (তাহের-মেহেদী গ্রুপ)।
সোমবার দিনভর দফায় দফায় কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভা কুবির ক্যাম্পাসেই ভিসির বাংলোতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভর্তি আগামী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ২০১৭-২০১৮ শিক্ষা বর্ষের প্রথম বর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছতে না পারায় তা স্থগিত করা হয়েছে। রাতে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার কুবির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের সভাপতিত্বে তার বাংলোতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ৮ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ওই বৈঠকে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে শিক্ষক সমিতির সঙ্গে কথা বলার জন্য বলা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আরেকটি বৈঠক হয়।
এতে শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন। কিন্তু উপাচার্যকে তার বাংলোতে বসেই ভর্তি পরীক্ষার কাজ করতে হবে। শিক্ষক সমিতির ওই বার্তা নিয়ে উপাচার্যের বাংলোতে যান রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. আবু তাহের। সেখানে শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপাচার্যকে জানানো হয়।
কিন্তু ভিসি ভর্তি পরীক্ষার সময়ে তার কক্ষের তালা খুলে দেয়ার দাবি করেন। কিন্তু এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা ঐক্যমতে পৌঁছতে না পারায় সন্ধ্যায় ভিসির নির্দেশেই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি ১৭ ও ১৮ নভেম্বরের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, এ বছর প্রায় ১২০০ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ৫৪ হাজার ৮০৯ জন আবেদন করেছিল। এ নিয়ে ভর্তিচ্ছুদের চিন্তার কারণ নেই, শিগগিরই নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, আমরা পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তবে উপাচার্যকে ভর্তি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম তার বাংলোতে বসে করতে হবে, আমরা তার কক্ষের তালা খুলে দেব না।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ বলেন, শিক্ষক সমিতি আমাকে বাংলোতে বসে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম চালানোর জন্য দাবি জানায়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা চালাতে হলে অফিসে বসে ভর্তি পরীক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমন্বয় সভা করতে হয়, এসব কাজ বাংলোতে বসে করা যায় না। তাই ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উপাচার্যের পদত্যাগসহ ১৪ দফা দাবিতে গত ১৫ অক্টোবর থেকে আন্দোলনে রয়েছে শিক্ষক সমিতির একাংশ। তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে ভিসির কার্যালয়ে, তাই গত ১৬ অক্টোবর থেকে উপাচার্য তার দফতরে যেতে পারছেন না।
কুবি ক্যাম্পাসের বাংলোতে বসেই জরুরি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন তিনি। আগামী ৩ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে ভিসির ৪ বছরের জন্য নিয়োগের সময়সীমা।
এ সময়ের মধ্যে তার কক্ষে তালা না খুলার পক্ষে অনঢ় রয়েছে শিক্ষক সমিতির একাংশ। এদিকে কুবির ভর্তি পরীক্ষার আগে শিক্ষকদের এমনই আন্দোলন ও এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কোনো হস্তক্ষেপ না করায় শেষ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করায় এ নিয়ে ভর্তিচ্ছু, তাদের অভিভাবক এবং সচেতন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/জেআইএম