গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের কাজীপাড়া ও হরিনাথপুর বিশপুকুর এবং মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের চরবালুয়া গ্রামে কাটাখালি নদী থেকে পাঁচটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
ফলে ওই এলাকাগুলো নদীভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যায় ভাঙনের ফলে কাজীপাড়া ও হরিনাথপুর বিশপুকুর এলাকার আধা কিলোমিটারেরও বেশি এলাকার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন আবার সেই জায়গায় নদী থেকে তোলা হচ্ছে বালু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতদিনেরও বেশি সময় ধরে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এসব এলাকায় চলতি বছরের বন্যায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। সেই ভাঙনে প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
গত শনিবার দুপুরে ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাটাখালি নদীতে পাঁচটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে নতুন বাড়ি করার জন্য ভূগর্ভের পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে ওই এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বাঁধটি দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ চলাচল করে। ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানুষকে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে অন্ধকার রাতে চলাচলে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম বিপাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, সাতদিনেরও বেশি সময় ধরে বালু তোলা হচ্ছে। এর আগে ওই এলাকায় নদীভাঙনে বাঁধের অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে আবারও ভাঙনে ওই এলাকায় বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর সেটি হলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি নদীতে সামান্য পানি বৃদ্ধি হলেই ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে মানুষজনের অনেক ক্ষতি হবে। তলিয়ে যাবে অসংখ্য ফসলি জমি।
বাঁধ দিয়ে চলাচলকারী কাজীপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম (৩৫) বলেন, বাঁধটির আধা কিলোমিটারেরও বেশি অংশ ভাঙনের ফলে হেঁটেই চলাচল করা যায় না। তাতে আবার নতুন করে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিদিন মালামাল পরিবহনের জন্য বেশি এলাকা ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেশি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে দোকানের সামান্য কিছু মালামাল বাইসাইকেলে পরিবহনের সময় নদীতে পড়ে যায়। এতে প্রায় দুই হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীলাব্রত কর্মকার মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভূমি সহকারী কমিশনারকে (এসিল্যান্ড) কয়েকবার পাঠিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। তারা একটি বন্ধ করলে আবার অন্য জায়গা থেকে বালু তোলে। ওই গ্রাম তিনটিতে বালু তোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন যেহেতু জানলাম এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
রওশন আলম পাপুল/এনএফ/পিআর