তাদের প্রত্যেকের বয়স তিন থেকে বড় জোর এগারো-বারো বছর। এই বয়েসেই বাসায় ব্যবহৃত জিনিস-পত্র যেমন দিয়াশলাইয়ের কাঠি, প্লাস্টিকের বোতল, কলম, সোলা কিংবা মাটি দিয়ে তৈরি করেছে স্বপ্নের স্কুল কিংবা নিজের বাড়ি। কেউবা বানিয়েছে শহীদ মিনার অথবা স্মৃতিস্তম্ভ। আবার কেউবা রঙ-পেন্সিল দিয়ে এঁকেছে ছবি।
স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নজরকাড়া এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ড দেখে সবাই হতবাক, মুগ্ধ। বৃহস্পতিবার সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সেলিনা নাসরিন এসেছিলেন এই প্রদর্শনী দেখতে।
বললেন, এখানে না আসলে বুঝতাম না এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভেতরে এই প্রতিভা আছে। আমি বিস্মিত এবং মুগ্ধ। দেখে অনেক ভালো লেগেছে।
শুধু সেলিনা নাসরিন নয়, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি এসব সৃজনশীল কর্মকাণ্ড দেখে সবাই মুগ্ধ। তাদের এই মুগ্ধতা দেশসেরা কেবল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বিআরবি গ্রুপের কিয়াম ছিরাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্টকর্তৃক পরিচালিত হাসিব ড্রিম স্কুল কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী সৃজনশীলতা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।
কোনো রকম প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই স্কুল কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করে দু’দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমধর্মী সৃজনশীলতা প্রদর্শনী।
৮ ও ৯ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সৃজনশীলতা প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্লে থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা এবং ইংলিশ ভার্সনে অধ্যায়নরত ৩২০ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই অংশগ্রহণ করে।
ব্যতিক্রমধর্মী এই প্রদর্শনী কেন আয়োজন করা হলো জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, ছোট-বড় সবার মধ্যেই সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। আমরা শিশু শিক্ষার্থীদের এই প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর জন্যই ব্যতিক্রমধর্মী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি। আয়োজনের পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দর্শণার্থীদের মধ্যে সে সাড়া দেখতে পেয়েছি এক কথায় বলতে গেলে, অসাধারণ অনুভূতি।
নিজ হাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এঁকেছে এক শিক্ষার্থী। জাপানে জন্মগ্রহণ করা এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই বোন ১ম শ্রেণির ছাত্রী তাসনুভা মুরশেদ বানিয়েছে জাপানের টিউলিপ গার্ডেন। আর বড় বোন ২য় শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত মুরশেদ জাপানিদের মতো করে ফুলদানি তৈরি করেছে। তাতে শোভা পাচ্ছে পেপার দিয়ে তৈরি করা রঙিন ফুল।
দ্বিতীয় শ্রেণির ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থী স্বীকৃতি রহমান সোলা দিয়ে তৈরি করেছে তার স্বপ্নের স্কুল। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত মালিহা সোলা দিয়ে তৈরি করেছে আমাদের স্মৃতিসৌধ।
এদিকে, ব্যবহৃত কলম দিয়ে কেজি শ্রেণির সাইফ আল মাজিদ বানিয়েছে টিসু বক্স। আর কেজি শ্রেণির শিক্ষার্থী ইফতেখার ওয়ালিদ কাগজ-সোলা দিয়ে তৈরি করেছে শহীদমিনার। কাগজ আর সোলা দিয়ে সৌরভ নামে কেজির এক শিক্ষার্থী বানিয়েছে টাইটানিক জাহাজ।
তৃতীয় শ্রেণির ইন্দ্রনীল দাস কাগজ আর সোলা ব্যবহার করে বানিয়েছে স্পিডবোট। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রেহানুল হাসান কাব্য, সোলা আর ইলেকট্রিক সামগ্রী দিয়ে বানিয়েছে মিসাইল।
স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের তৈরি এরকম অসাধারণ সৃজনশীল কর্মকাণ্ড দেখে মুগ্ধ সবাই। ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের জন্য আগত দর্শণার্থীরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান।
আল-মামুন সাগর/এএম/আইআই