দেশজুড়ে

বাজারে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখি!

ঝিনাইদহের হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখি। এটি বন্ধে আইন থাকলেও নেই এর প্রয়োগ। জেলার বিভিন্ন বিল, হাওড়, বাওড়ে এখন অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। আর সেই সুযোগে অসাদু পাখি শিকারিরা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি নিধন করছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটির বাসিন্দা কুতুব উদ্দীন জানান, শীতের শুরুতেই হরিনাকুন্ডু, শৈলকুপা, মহেশপুর, কোটচাদপুর, কালীগঞ্জ থানার বিভিন্ন বিলে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। বিলের পানি কমায় অল্প পানিতে খাবার সংগ্রহের জন্য আসে এসব পাখিরা। তবে অবৈধভাবে কেউ যাতে পাখি শিকার না করতে পারে সেদিকে কর্তৃপক্ষের মনিটারিং করা উচিত।

পাখি বিক্রি হচ্ছে এমন সংবাদের সূত্র ধরে সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে গিয়ে পাওয়া গেলো হরিনাকুন্ড উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের জহিরুল ইসলাম নামের এক বিক্রেতাকে। তিনি জানালেন, এই পাখি রাতে বিল থেকে ধরা হয়। তিনি ১২টি কাদা খোচা পাখি ও ৯টি কাইয়ুম পাখি এনেছিলেন। কাইয়ুম পাখিগুলো ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

তিনি জানালেন, বাজারে পাখি বিক্রেতা তিনি একা নন। বাকিরা ইতোমধ্যে ৮০-৯০টি বিভিন্ন জাতের পাখি বিক্রি করে চলে গেছে।

সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজি নাজীর উদ্দীন জানান, পাখি নিধন কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কাছে তিনি অনুরোধ জানান বাজারে কেউ পাখি বিক্রি করতে এলে তাকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে যেন বিচার করা হয়।

ঝিনাইদহ কৃষি অফিসার ড.খান মুহামুদ মনিরুজ্জামন জানান, পাখি কৃষকের বন্ধু। জমির বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করে পাখি। কৃষি বিভাগ কৃষকের কিটনাশক ব্যবহার কমাতে ও পাখিরা যাতে ধানের জমিতে অবাধভাবে বিচরণ করতে পারে সেই পরামর্শ দিচ্ছে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/আইআই