রাজনীতি

তিন দফা তারিখ দিয়েও হয়নি নোয়াখালী ছাত্রলীগের সম্মেলন

গত কয়েক মাস ধরে নোয়াখালী ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় দেখা গেছে। চলতি বছর তিন দফা তারিখ দিয়েও হয়নি বহু প্রতিক্ষিত সম্মেলন। বার বার তারিখ পেছানে নিয়ে জেলার ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা গুঞ্জন। এখন সবার একটাই প্রশ্ন কবে হবে ছাত্রলীগের সম্মেলন? সর্বশেষ ২০১০ সালের জুনে জেলা ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ইবনে ওয়াজেদ ইমনকে সভাপতি ও ফজলুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬৭ সদস্যের জেলা কমিঠি গঠন করা হয়। দুই বছরের ওই কমিটির মেয়াদ ২০১২ সালের জুনে শেষ হলেও ৩ বছরেও হয়নি নতুন কমিটি। তবে বর্তমান নেতারা নতুন কমিটি না হওয়ার জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্মেলনের ১০ মাস পরে দায়িত্ব বুঝে পাওয়াই সম্মেলন বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি করেন। চলতি বছর সংগঠনটি জেলার নতুন সম্মেলনের উদ্যোগ গ্রহণ করে ১৪ মে প্রথম তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারিখ পিছিয়ে ১৩ জুন নির্ধারণ করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন না হয়ে তৃতীয়বারের মতো তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। গত ১৭ জুন জেলা ছাত্রলীগের জরুরি মতবিনিময় সভায় ২৪ জুন নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের থাকার কথা ছিল। কিন্তু ২৪ জুনেও সম্মেলন না হওয়ায় ছাত্র সংগঠনটির সম্মেলন কবে হবে, তা নিয়ে পদ প্রার্থী ও নেতা কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। সূত্র জানায়, বর্তমান কমিটি জেলার বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল, নোয়াখালী পৌরসভা, চৌমুহনী পৌরসভা, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, চৌমুহানী কলেজসহ শাখাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি। ২টি উপজেলা ও কলেজ পর্যায়ে কয়েকটি আহ্বায়ক কমিটি করে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করায় পদ বঞ্চিত ত্যাগী ছাত্রনেতাদের মধ্যে বইছে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ। আহ্বায়ক কমিটির অনেকে অছাত্র, বিবাহিত, চাকরিজীবি বলে জানা গেছে। এজন্য স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ এ অবস্থা চলতে থাকলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে না। এজন্য উপজেলাগুলোর সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকৃত ছাত্রদের দ্বারা কমিটি করার জোর দাবি জানান তারা। এদিকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা সম্মেলনকে ঘিরে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক  উৎসাহ উদ্দীপনা। জেলার ৯টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও প্রায় ১১০টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে। সম্মেলনকে ঘিরে গত এক মাস ধরে কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্য জোর লবিং করে আসছেন নেতা-কর্মীরা।  সম্মেলনকে ঘিরে জেলার প্রধান শহর মাইজদীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর চারপাশে শোভা পাচ্ছে পদপ্রার্থীদের নানা রঙের  পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বড় বড় বিল বোর্ড। বাসা-বাড়ি ও স্থাপনায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন বাহারি ডিজিটাল ব্যানার। অতিথিদের শুভেচ্ছা সম্বলিত বিশাল আকৃতির কয়েকটি বিলবোর্ডও দেখা যাচ্ছে। উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে সঙ্গে বার বার তারিখ পেছানোর শঙ্কাও যোগ করেছে নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা। কবে হবে সম্মেলন এ প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে। তারিখ পেছালেও পদপ্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, স্থানীয় সকল সংসদ সদস্যসহ সাবেক জেলার ছাত্র নেতাদের আর্শীবাদ পাওয়ার জন্য।সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আরমান, প্রচার সম্পাদক তানবীর আহমেদ, অহিদুজ্জামান মামুন, রুবাইয়াত রায়হান আরাফাত, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রহমত উল্যাহ ভূইয়া, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ইমাম হোসেন রাসেল, ইনসারুল করিম ধীমান, শহিদ উদ্দিন সুবেল, ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান রাকিব, সহ-সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত মানিকসহ একাধিক নেতার। তবে এদের মধ্যে অনেকেরই ছাত্রত্ব নেই। অনেকে বিবাহিত।এদিকে একাধিক সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতাদের দাবি, আগামী সম্মেলনে যাতে প্রকৃত পরিষ্কার ইমেজধারী ছাত্ররাই নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসেন। যারা রাজপথে থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন সে রকম নেতৃত্ব তৈরির লক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন। সঙ্গে সঙ্গে অছাত্র, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, বিবাহিত ও ছাত্রলীগের ঐতিহ্য নষ্টকারীরা যেন কমিটিতে স্থান না পায় সে আশাও ব্যক্ত করেন তারা।জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সহিদ উল্লা খাঁন সোহেল জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রলীগের মতো একটি বড় সংগঠনের নেতৃত্বে আসার জন্য দৌড়ঝাঁপ থাকবে স্বাভাবিক। তবে নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে আসন্ন ছাত্রলীগের সম্মেলনে সৎ, প্রকৃত ত্যাগী নেতারা স্থান পাবেন এ প্রত্যাশা আমাদের। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইবনে ওয়াজেদ ইমন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক সুজনের কাছে জানতে চাইলে তারা জাগো নিউজকে বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জেলা সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান বৈরি আবহাওয়া ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যস্ততার কারণে কয়েক দফায় সম্মেলন পেছানো হলেও খুব শীঘ্রই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।মিজানুর রহমান/এমজেড/এমআরআই