দেশজুড়ে

হাওরের কৃষকের মুখে আমন ধানের হাসি

হাওর বেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিস্তৃত জমি এখন যেন পাঁকা আমন ধানের সাগর। এবারের ফলনে কৃষকের মুখেও তাই তৃপ্তির হাসি ফুটেছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। সেই ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষাণ কৃষাণীরাও। নতুন ধান এখন শোভা পাচ্ছে কৃষকের বাড়ির উঠান ও আঙিনায়। সবার ঘরে ঘরে এখন নবান্নের সাজ।

এ বছর নাসিরনগর উপজেলায় নয় হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের মাঝে সোনালী ধানের ঝিলিক। এবছর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১.৬ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

সরেজমিনে নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানি জমিতে প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই কৃষক-শ্রমিকদের ধান কাটতে দেখা গেছে। ধান কাটা শেষে দলবেঁধে কৃষক-শ্রমিকরা সেই ধান কাঁধে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা দৈনিক মজুরি ও তিন বেলা খাবারের চুক্তিতে ধান কাটার কাজ করছেন মৌসুমি শ্রমিকরাও।

উপজেলার ভলাকূট ইউনিয়নের বাগী গ্রামে জমিতে ধান কাটার ফাঁকে রফিক মিয়া নামের এক শ্রমিক বলেন, ৮ জন মিলে ৪০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ধান কাটার কাজ নিয়েছি। অন্য সময় রিকশা চালালেও ধান কাটার এই সময়টাতে শ্রমিকের কাজ করি। এতে করে বাড়তি কিছু টাকাও আয় হয়।

দাঁতমণ্ডল গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, এবছর ছয় কানি জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। গতবারের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। ভালো দাম পেলে আগের লোকসান কটিয়ে উঠতে পারবো।

কুণ্ডা গ্রামের কৃষক হরিপদ বলেন, অন্যান্য মৌসুমের ধান চাষের তুলনায় আমন ধান চাষে পরিশ্রম কম হয়। জমিতে ধান ছিটানোর পর প্রয়োজনীয় সার দিয়েই আবাদ করা যায়। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তা ইতোমধ্যেই ছাড়িয়ে গেছে। এবছর আবহওয়া অনুকূল, সুষম সার ব্যবহার এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/আরআইপি