দেশজুড়ে

কুষ্টিয়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে দেড়শ শিশু হাসপাতালে

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা মাত্র ২৮টি। কিন্তু গত দুদিনেই ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের এই শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে প্রায় দেড়শ শিশু। জ্বর, কাশি ও ভাইরাসজনিত সমস্যা নিয়ে এসব শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চিকিৎসকদের হিসেব মতে, গত দুদিনে শুধুমাত্র ঠাণ্ডাজনিত কারণে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় তিন শতাধিক শিশু।

সরেজমিনে দেখা যায়, বহির্বিভাগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে স্বজনরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছে। শিশু ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

এক বছর ৮ মাস বয়সী মেয়ে মেহজাবিনকে নিয়ে সকালে শিশু ওয়ার্ডে এসেছেন মা রাশেদা বেগম। তিনি জানান, হঠাৎ করে ঠাণ্ডায় কাশি ও কাপুনি দিয়ে জ্বর শুরু হয় মেহজাবিনের। স্থানীয় ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। তাই বিলম্ব না করে হাসপাতালে চলে এসেছেন। এখানে আসার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেয়েকে দেখে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া যদুবয়রা গ্রামের জামিরুলের ১১ মাসের ছেলে জিনাত, জগতি মন্ডল পাড়ার মেহেদির ছেলে মহিদসহ প্রায় সকলেই ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। রোগীর এক স্বজন জানান, মেঝেতে শিশুদের রাখলে চিৎকার করে কাঁদছে। তাই এক বেডেই তিন শিশুকে ঘুমিয়ে রাখা হয়েছে।

মাত্র ২৮টি বেডের স্থলে প্রায় দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান কর্তব্যরত নার্সরা।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এবি সিদ্দিক জানান, এই সময়ে শিশুরা নানা রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে যে রোগটি সবাইকে খুব সহজে আক্রান্ত করে তা হলো- ঠাণ্ডা, কাশি ও ভাইরাস জ্বর।

তিনি বলেন, মানবদেহে ভাইরাস আক্রমণের কয়েক দিনের মধ্যে জ্বর দেখা দেয়। ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরে শীত-শীত ভাব, কাঁপুনি, মাথা ব্যথা, হাত-পায়ের গিরায় ব্যথা, খাবারে অরুচি, নাক দিয়ে অঝোরে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও সর্দি দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে বমি ও ডায়রিয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে পেট ব্যথাও হতে পারে। অভিভাবকদের এ বিষয়ে একটু সতর্ক থাকতে হবে। জ্বরের শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান ডা. এবি সিদ্দিক।

আল-মামুন সাগর/আরএআর/আইআই