সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আটশতবিঘা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও সরকারিকরণ হয়নি। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ২০০৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয়রা।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহুবার আবেদন করা হলেও কোনো ফল হয়নি। নির্মাণ হয়নি সরকারিভাবে কোনো ভবন। আজও এমপিওভুক্ত হয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ। দীর্ঘদিনের টিন সেটের ঘরগুলোরও বেহাল দশা। সংস্কারের অভাবে মরিচা পড়া ছাউনির টিন ভেঙে পানি পড়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানও দারুণভাবে ব্যাহত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপিনাথ ঘোষ বলেন, আমি এখানে ৭ বছর ধরে রয়েছি। বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৬ জন। ২০১২ সালে আমরা সকল কাগজপত্র জমা করি। ৩ দফায় দেশের প্রতিটি এলাকার বেসরকারি প্রাথমিকগুলো সরকারিকরণ হবে। আশায় ছিলাম প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফায় এ বিদ্যালয়টিও সরকারি হবে, কিন্তু হয়নি। উপজেলার ৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৯টি সরকারিকরণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শুরু থেকে নিয়োজিত শিক্ষিকা স্বপ্না রানী মন্ডল বলেন, বিদ্যালয়টির শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিনা বেতনে পাঠদান করছি। কিন্তু ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। কয়েকজন শিক্ষক বিনা বেতনের চাকরি ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। আমরা যারা শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি তারা মানবেতর জীবনযাপন করছি। বিদ্যালয়টির বিষয়ে দেবহাটা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রণব কুমার মল্লিক বলেন, প্রসেসিংয়ের কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল এজন্য হয়ত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়নি। তাছাড়া আমি কিছু দিন আগে যোগদান করায় বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস