ক্যাম্পাস

ইবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ১৩ ডিসেম্বর, প্রার্থী চূড়ান্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ১৩ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামীপন্থী ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা নির্বাচনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সিনিয়র-জুনিয়রের সমন্বয়ে প্যানেল ঘোষণা করে সবার নজর কেড়েছে। আর বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা শিক্ষক সমিতি পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু সিনিয়র শিক্ষকদের দিয়েই হেভিওয়েট প্যানেল ঘোষণা করেছে।

অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জিতে অনেক নেতাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আবার অনেকে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রাজনীতির নেতাদের সুনজড়ে পড়ে টাইমলাইনে চলে এসেছেন। তাই দুদলই দলমত নির্বিশেষে সকল শিক্ষকদের কাছে গিয়ে নিজেদের প্যানেল জয়ী করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ২০১৮ উপলক্ষে গত ২৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে। এছাড়া গত ৬ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার শেষ সময় এবং আজ রোববার ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়।

আগামী ১৩ ডিসেম্বর অনুষদ ভবনের ৪২৭ নম্বর রুমে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে বলে জানা গেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কাজী আখতার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, জমাকৃত মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সকলের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া শেষ সময় পর্যন্ত কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহারও করেনি। একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি এবং যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে।

গতবারের মতো এবারও বঙ্গবন্ধুর পরিষদ এবং প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম একটি যৌথ প্যানেল ঘোষণা করে। প্যানেলে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রুহুল কে এম সালেহকে সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এ এইচ এম আক্তারুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এছাড়া সহ সভাপতি পদে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক বাকী বিল্লাহ বিকুল এবং কোষাধ্যক্ষ পদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

সদস্য পদে অধ্যাপক অববিন্দ সাহা, অধ্যাপক আনোয়ারুল হক স্বপন, অধ্যাপক এস এম মোস্তফা কামাল, সহযোগী অধ্যাপক ধনঞ্জয় কুমার, তপন কুমান রায়, আসাদুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক আনিচুর রহমান, জয়শ্রী সেন ও শফিকুল ইসলাম।

এদিকে বরাবরের মতো এবারও জিয়া পরিষদ এবং জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘গ্রীন ফোরাম’ যৌথ প্যানেল ঘোষণা করে। এই প্যানেলে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে সভাপতি এবং শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অলী উল্যাহকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী করা হয়েছে।

এছাড়া সহ-সভাপতি পদে অধ্যাপক শহীদ মোহাম্মদ রেজওয়ান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অধ্যাপক এ এস এম আইনুল হক আকন্দ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে আসাদ-উদ-দৌলাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক আবু সিনা, অধ্যাপক নজিবুল হক, অধ্যাপক তোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান, অধ্যাপক নুরুন নাহার, অধ্যাপক ওবায়েদুল ইসলাম, অধ্যাপক এ কে এম রাশেদুজ্জামান, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন।

এ বিষয়ে জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. এয়াকুব আলী জাগো নিউজকে বলেন, এবার জিয়া পরিষদ ও গ্রীন ফোরাম মিলে যে প্যানেল দেয়া হয়েছে এদের অনেকেই অতীতেও শিক্ষকদের রায় নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং শিক্ষকদের কল্যাণে কাজ করেছে। এবারও এই প্যানেল বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আবারও শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে এবং তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

সিনিয়র এবং জুনিয়রের সমন্বয়ে মানসম্পন্ন চমৎকার একটি প্যানেল ঘোষণা করতে পেরে উজ্জীবিত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, গতবারের জয়ের ধারা এবারও অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কল্যাণমূলক কাজ করতে পারব বলে আশা করি।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/এমএএস/আইআই