দেশজুড়ে

মাদকদ্রব্য অফিসের পরিদর্শকের মাদক মামলার তদন্ত শুরু

ভৈরবের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর অফিসের পরিদর্শক কামনাশীষ সরকার গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

গত ২৫ নভেম্বর তার অফিস থেকে অবৈধ মজুদকৃত ৬৮ কেজি গাঁজা ও ২৪ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।

মজুদকৃত মাদকের কোনো সিজারলিস্ট বা মোভমেন্ট রেজিস্টারে মাদক উদ্ধারের ঘটনা লেখা না থাকার অভিযোগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে উপ-পরিচালক।

অফিস কর্মচারীদের কাছ থেকে গোপন সূত্রে খবর ছিল উদ্ধারকৃত মাদক পরিদর্শক গোপনে বিক্রি করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ খবরে উপ- পরিচালক ঘটনার দিন ভৈরব অফিসে এসে অবৈধ মজুদকৃত এসব মাদক উদ্ধার করে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে পুলিশ ডেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে ওইদিন রাতেই উপ-পরিচালক বাদী হয়ে পরিদর্শককে আসামি করে ভৈরব থানায় মাদক আইনে একটি মামলা করেন।

উল্লেখ্য, পরিদর্শক কামনাশীষ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ভৈরব অফিসে যোগদানের পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজস করে মাদকের টাকা ঘুষ গ্রহণসহ গোপনে উদ্ধারকৃত মাদক সিজারলিস্ট না করে নিজে বিক্রি করে লাভমান হচ্ছেন। চট্টগ্রাম অফিসে তিনি কর্মরত অবস্থায় এ ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তার অফিসিয়াল শাস্তি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। গ্রেফতারের পর পরিদর্শক এখন কারাগারে রয়েছেন।

জানা গেছে, দায়ের করা মামলাটি পুলিশ নয় ডিপার্টমেন্টই (মাদকদ্রব্য অফিস) তদন্ত করবে। এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা অফিসের উপ-পরিচালক (গোয়েন্দা) আহসানুর রহমান।

রোববার মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে তিনি জানান, মামলাটি তদন্ত করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু হবে। ইতোমধ্যেই মামলার এজাহারসহ যাবতীয় কাগজপত্র হাতে পেয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ভৈরব অফিসের অন্যান্য কর্মচারীসহ কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক, পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শীদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজনে কারাগারে গিয়ে পরিদর্শকের জবানবন্দি নেয়াসহ অফিসের খাতার রেকর্ডপত্র দেখা হবে বলে তিনি জানান।

ফারুক/এমএএস/আইআই