ভারতের রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি হোমে আটক থাকা বাংলাদেশি ১৫ শিশু-কিশোরকে দু’দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আটক এসব শিশু-কিশোরদের ফিরিয়ে আনা হয়।
বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় দিনাজপুরের হিলি চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশ হাকিমপুর হিলি ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। গত দুই বছর ধরে তারা সেখানে আটক ছিল।
দালালেরা অবৈধ পথে এসব শিশু-কিশোরদের চাকরির প্রলোভনে অনায়াসে পাচার করে ভারতে। আবার অনেক শিশু-কিশোর ভারতে অবৈধভাবেও প্রবেশ করলে সেদেশের বিএসএফ ও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা।
তবে ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় আটক এসব শিশু-কিশোরদের জেলহাজতের পরিবর্তে হোমে আটক রাখা হয়। দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার তারা দেশে ফিরল।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আফতাব হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই হোমে আটক থাকায় বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিতে আসে। পরবর্তীতে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এরপর তাদেরকে পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়।
দেশে ফেরত আসা শিশু-কিশোরেরা হলো, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার চামনদুরাই গ্রামের প্রফুল রায়ের ছেলে জীবন রায়, ইয়াছিন আলীর ছেলে রশিদুল ইসলাম ও ডহছি গ্রামের মৃত বচ্চন রায়ের ছেলে প্রদীপ রায়, রতন রায়ের ছেলে সুমন রায়, বোচাগঞ্জ উপজেলার জামিরা গ্রামের গোবিন্দ চন্দ্রের ছেলে কৈলাশ রায়, একই গ্রামের পাথারু রায়ের ছেলে সঞ্জিত রায় ও ছোট সুলতানপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে সবুজ আলী, ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জয়কুর গ্রামের জয়রামের ছেলে কমল রায়, হরসুয়া গ্রামের বিনোদ জালীর ছেলে কমল জালী, গনেশ রায়ের ছেলে রতন রায়, পাথালু জালীর ছেলে সুজন জালী ও জিনেন্দ্র রায়ের ছেলে কেশব রায়, কেটগন গ্রামের চিত্র মোহনের ছেলে ডিপজল রায় ও বিনয় রায়ের ছেলে উৎপল রায় ও হরিপুর উপজেলার পীরহাট গ্রামের জহির হোসেনের ছেলে লিটন।
এমদাদুল হক মিলন/এএম/আইআই