চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০১৭-১৮) একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা মো. মুন্না আলীর ভর্তির অর্থ দিল ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। শনিবার মহান বিজয় দিবসে মুন্নার মায়ের হাতে ভর্তির অর্থ তুলে দেন ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনতোষ কুমার দে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবীন সাংবাদিক সংগ্রামী বাংলার সম্পাদক আব্দুল লতিফ ও ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ। মুন্না ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের বর্গাচাষি আব্দুল মালেকের ছেলে।
শিক্ষার্থী মুন্না জানায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন চালু করা আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনাতে পড়াতেই আমার ইচ্ছা। তাছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ববর্তী বছরে ভর্তি ফি তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে থাকায় আগে থেকেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেই। টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চয়তা পড়েছিলাম। ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান মাহফুজ কবির স্যার আমার ভর্তির দায়িত্ব নিয়ে অর্থ তুলে দিয়েছেন আমার মায়ের হাতে।
ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান মাহফুজ কবির জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার দিক দিয়ে অনেক পিছেয়ে। অনেক ভালো ছাত্র অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না যা পত্র-পত্রিকায় খবর দেখলে কষ্ট লাগে। মুন্নার ভর্তির অশ্চিয়তার খবর ফেসবুকে নজরে আসলে তার ভর্তি হওয়ার দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র। আমরা এই অঞ্চলে শিক্ষা প্রসারে কাজ করছি। ঠাকুরগাঁওয়ে মেধাবী মুন্নার মতো কোনো অসহায় শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে ভর্তি হতে না পারলে ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সব সময় তাদের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, মুন্না এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটে নৃ-বিজ্ঞান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে 'এ' ইউনিটে ইংরেজি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এইচ’ ইউনিটে আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা ‘বি’ ইউনিটে ইংরেজি এবং 'সি' ইউনিটে লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ অর্জন করেছেন। ইতোমধ্যে অর্থাভাবে জবিতে ভর্তির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে মেধাবী ছাত্র মুন্নার।
রিপন/এমএএস/আরআইপি