দেশজুড়ে

দেড় লাখ টাকা হলেই সুস্থ হয়ে যাবেন লেদু মিয়া

শিশু বয়সে গাছ থেকে পড়ে আঘাত পাবার পরও কাজ করতে হয়েছে প্রতিদিন। বিধবা মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে টিকতে ব্যথা তাড়াতে খাওয়া হয়েছে একের পর এক এন্টিবায়োটিক। অতিরিক্ত ব্যথার ওষুধ খেতে গিয়ে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে গেছে কোমরের দুটি হিপ জয়েন্ট। তাই টগবগে যুবক বয়সেও লোহার এঙ্গেলে ভর করেই তার পথচলা।

চিকিৎসকদের দেখানো কৃত্রিম হিপ জয়েন্ট স্বাভাবিকভাবে চলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাকে। ইতোমধ্যে পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে লাগানো হয়েছে বাম পায়ের কৃত্রিম হিপ জয়েন্ট। দেশ বিদেশের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতায় বিগত মাস ছয়েক আগে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে এটি সম্ভব হয়। কিন্তু অপর হিপ জয়েন্টটি লাগাতে গিয়ে টাকার অভাবে বিগত ২৫ দিন ধরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতালে) অসহায় দিন কাটাচ্ছে তরুণটি।

দ্বিতীয় অপারেশনে তার প্রয়োজন আড়াই লাখ টাকা। নানা সহায়তায় এক লাখ টাকা হাতে এলেও বাকি দেড় লাখ টাকা যোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে তার স্বাভাবিক পথ চলায় সহায়তা করতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

বলছিলাম কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব পোকখালীর পিতৃহীন মো. লেদু মিয়ার (৩০) কথা। চাল-চুলোহীন লেদু মিয়া মৃত জাফর আলম ও বিধবা আনচারু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের ৩য় তলায় ইএফপি ৬০ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন।

তিন সন্তানের জনক লেদু মিয়া জানান, জন্মের দু’বছরের মাথায় বাবাকে হারিয়ে প্রাইমারির গন্ডিটাই পার হওয়া সম্ভব হয়নি। বিধবা মাকে নিয়ে শিশু বয়সেই বাড়ি-ভিটাহীন জীবন যুদ্ধে নামতে হয়। এলাকায় অন্যের বাড়িতে নারকেল পারতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে আঘাত পায় ৭-৮ বছর বয়সে। তৎক্ষণাত তেমন ব্যথা অনুভূত না হলেও ধীরে ধীরে এটি বাড়তে থাকে। ভারি কাজ করা কষ্ট কর হওয়ায় চাকরি নেয়া হয় একটি দোকানে। মাকে সেবা করতে বউ আনার পর পুরনো ব্যথাটি তীব্র হয়। দোকানে হিসাবের কাজ করতে গিয়ে বসে থাকা ও ব্যথানাশক এন্টিবায়োটিক খেতে গিয়ে শুকিয়ে বিকল হয়ে যায় হিপ জয়েন্ট দুটি। সমস্যা দেখা দেয় লিভার এবং কিডনিতেও। এটি বিগত ১০ বছর আগের ঘটনা। স্বাভাবিক চলাফেরা কষ্টকর হওয়ায় ছেড়ে দিতে হয় চাকরিটি।

তিনি জানান, তখন থেকেই ক্র্যাচে ভর করে চলে হাটা-চলা। নানা প্রচারণার মাইকিং, অন্যের অনুগ্রহের ওপর চলছে স্ত্রী, তিন সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চলমান সংসারটি। একসময় নিজ আয়ের ওপর নির্ভর করে চলা জীবনে অন্যের অনুগ্রহ নেয়া খুবই বেদনাদায়ক। তাই নিজের ওপর নির্ভরশীল হতে সবার সহযোগিতায় কৃত্রিম হিপ জয়েন্টগুলো লাগাতে চাচ্ছি। গত রমজানে সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বলেই বাম পায়ে হিপ জয়েন্ট সফলভাবে বসানো সম্ভব হয়েছে।

একযুগ আগেও কর্মঠ তরুণ হিসেবে চাকরি করা লেদু মিয়া বলেন, এখন ডান পায়ের অপারেশনে প্রায় ২ লাখ টাকার দরকার। কিন্তু হতদরিদ্র বাড়ি-ভিটেহীন হিসেবে একার পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা যোগাড় হলেও বাকি আছে আর মাত্র দেড় লাখ টাকা। তাই সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি ও প্রবাসি ভাইয়েরা ইচ্ছে করলে আমার পঙ্গুত্বের অবসান হতে পারে। তাই শেষবারের মতো অন্যের অনুগ্রহ কামনা করেন লেদু মিয়া।

পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, লেদু মিয়া এতিম ও ভূমিহীন। কিন্তু ছেলে হিসেবে সৎ। গত জুনমাসে সবার সহযোগিতায় বাম পায়ে কৃত্রিম হিপ জয়েন্ট লাগানো হয়েছে। স্বাভাবিকতা ফেরাতে ডান পায়ের অপারেশন করাতে আবারও ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা দিয়েছি। সবাই সবার স্থান থেকে এগিয়ে এলে তার জীবনটা দ্রুত একটা গতি পাবে বলে আমার বিশ্বাস। লেদু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এ ০১৮১২৯৫১৪৫০ নম্বরে।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/জেআইএম