ক্যাম্পাস

ইবিতে ভর্তির সুযোগ পেলেন সেই ১০০ শিক্ষার্থী

অবশেষে আদালতের রায়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সিন্ডিকেট কর্তৃক ভর্তি বাতিল হওয়া সেই ১০০ শিক্ষার্থী। ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিটের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষবর্ষের বহুল আলোচিত সেই ১০০ শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ১৫ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নির্ধারিত ভর্তি আবেদন ফরম সংগ্রহ করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ৩৩১৯/২০১৭ এবং আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিভিল আপিল নং ৪২৪/২০১৭ এর আদেশ মোতাবেক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ‘এফ’ ইউনিটভুক্ত পরিসংখ্যান ও গণিত বিভাগে ভর্তিকৃত ও পরবর্তীতে ভর্তি বাতিলকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে যে সকল শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে ভর্তি হয়েছে তারা ব্যতীত উক্ত শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির অনুমতি দেয়া হলো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন,আমরা সর্বদা মহামান্য আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের নির্দেশ মতই ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেয়া হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ‘এফ’ ইউনিটের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি ১০০ শিক্ষার্থী ওই ইউনিটভুক্ত পরিসংখ্যান ও গণিত বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর ওই বছরের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফারহানা আক্তার লিজাসহ ৮৮শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৩ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রুল জারি করেন। এর মধ্যে ১৬ মার্চ ‘এফ’ ইউনিটে ফের পরীক্ষা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করেন। আপিল বিভাগ গত বছরের ২২ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা বাতিলে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।

তখন আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন এবং আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিভিল আপিলের আদেশের ভিত্তিতে সেই আলোচিত ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএআর/জেআইএম