দেশজুড়ে

সুবলের রোজ আয় ৮৫ টাকা

সুবল বিশ্বাস। জীবনের ৫৫ বছর পার করেছেন। তবে মিলাতে পারেননি জীবনের হিসাব। চা বাগানে কাজ করেন তিনি। ২৭ বছর কাজ করার পর তিনি এখন কোম্পানির কাছে একজন বিশ্বস্ত শ্রমিক। কোম্পানির চা পাতা নিলামের জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া তার মূল কাজ। কোম্পানির লাভ লোকসানের সাক্ষী তিনি। কোম্পানির কোটি কোটি টাকার পণ্য বিক্রি বা মুনাফা অর্জন তারই সংস্পর্শে। কিন্তু জীবনের চরম বাস্তবতায় তিনি একজন অসহায় ব্যক্তি। শীত-বর্ষায় তার এ অসহায়ত্ব কঠিনভাবে জানান দেয় তাকে।

সুবল জানান, আমার হাতে কোম্পানির কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় সাহেব। কিন্তু আমার সেই হাতে সপ্তাহে সাড়ে ৫শ’ টাকার বেশি এক পয়সাও তুলে দেয় না কোম্পানি। এ শীতে ঘরে একটা ভালো কম্বল নেই। কদিন আগে শীতের মধ্যে বৃষ্টি হলো যে, আমার ঘরে পানি পড়েছে। বর্ষার সময় পানি আর শীতের সময় কুয়াশা ঢুকে ঘরে। এভাবেই আমাদের জীবন চলে। জীবনের করুণ উপলব্ধির কথা এভাবেই জাগো নিউজকে বলছিলেন সুবল। মৌলভীবাজার জেলার চম্পারায় চা বাগানের বাসিন্দা সুবল বিশ্বাস স্ত্রী ও ৫ ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। প্রায় ২৭ বছর থেকে চা বাগানের একজন শ্রমিকের কাজ করেন। শুরুতে বাগানের শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও সততা আর নিষ্ঠায় ১৯৯৮ সালে তিনি কোম্পানির বিশ্বস্ততা লাভ করেন। তারপর সরাসরি চলে যান নিলাম কাজের শ্রমিকের পদে। এরপর থেকে সপ্তাহে প্রতি রোববার সাড়ে ১১ টন করে চা পাতা নিয়ে যান চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্রে। সেখানে তা বিক্রি করে আবার বাগানে ফিরেন। সরকারের লাথ টাকার রাজস্ব ও কোম্পানির কোটি টাকার মুনাফা তারই হাতে হয়। কিন্তু নিজের ভাগ্যে শীতের একটা কম্বল জুটে না তার। প্রতিদিনের মুজুরি ৮৫ টাকা। সুবল বলেন, আমাদের কষ্টের বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা আয় করে মালিক পক্ষ। প্রতি নিলাম শেষে বকশিশ পায় কেম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। আমাদের শুধু দেখে যেতে হয়। ৭ সদস্যের সংসার চালাতে প্রতিদিন কোম্পানি ডিউটি শেষ করে এ শীতে অভার টাইম কাজ করে বাঁচতে হয়। আমাদের শীত-গরম সবই সমান। আপনাদের শীতের কম্বল-জামা নেই এটা বাগানকে বলেননি কখনও, এমন প্রশ্নের জবাবে সুবল বলেন, বললেই যদি দিয়ে দিত তাহলে শত শত বৎসর ধরে শ্রমিকদের কষ্ট করে থাকতে হতো না। বাগানে সব মুখ চেনা কারবার। তাদের বড় বাবুরা সবই পায়। পায়না শুধু যাদের শ্রমে তাদের এ বিলাসি জীবন তারা।

এমএএস/আরআইপি