ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে ধোয়াশা কাটছেই না। এক বছরের জন্য গঠিত কমিটি দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছে ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম। কেন্দ্র থেকে বার বার তারিখ নির্ধারণ করে দিলেও ‘রহস্যজনক’ কারণে সম্মেলন করতে পারছে না বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি।
সর্বশেষ সম্মেলনের তারিখ পেছানোর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন। যদিও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার কারণেই সম্মেলন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বলে একটি সূত্র জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছে।
তবে তিন দফা পেছানোর পর এবার চতুর্থবারের মতো তারিখ পড়েছে সম্মেলনের। আগামী ৩১ জানুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্। নতুন তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় নতুন করে ফের আশায় বুক বেঁধেছেন নেতাকর্মীরা।
তবে নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন না হওয়ায় নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে। অনেকের আবার ছাত্রত্বও শেষ হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাসুম বিল্লাহ্কে সভাপতি ও রাসেল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের ২৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর মেয়াদি এই কমিটি তাদের ১৭৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে সময় নেয় আরও দুই বছর। এ কমিটি দিয়েই প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছে সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম।
তবে গেল বছর সম্মেলন নিয়ে তোড়জোর শুরু হয়। ওই বছর তিন দফা তারিখ নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। প্রথমে ১১ই জুলাই এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ২১ অক্টোবর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বার বার তারিখ নির্ধারিত হলেও সম্মেলন আর হয়নি। এতে করে হতাশা দেখা দিয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মাঝে।
সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চিতয়তা না কাটলেও দলের দুই শীর্ষ পদের জন্য দৌঁড়ঝাপ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এসব প্রার্থীদের তালিকায় ‘ক্লিন ইমেজ’র চেয়ে মামলার আসামি আর ছাত্রত্বহীন প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি।
সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ডজন খানেক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এদের কেউ কেউ বর্তমান কমিটির পদেও রয়েছেন। সভাপতি প্রার্থী হিসেবে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মামুন, আকরামুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম আপন, মেহেদী হাসান লেনীন, মো. মোমিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হোসেন, ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রিদোয়ান আনসারী রিমো ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শোভনের নাম শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, সুজন দত্ত, দফতর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ও শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মিকাঈল হোসেন ও জহিরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে এদের মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী ছাত্রত্ব হারিয়েছেন বহু আগে। তাছাড়া কোনো কোনো প্রার্থীর নামে অস্ত্র আইন ও ভাংঙচুরসহ নানা অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্ জাগো নিউজকে বলেন, সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্র থেকে তিন দফা তারিখ দিয়ে নানা কারণে আবার তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আমাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল তবে তিনি সময় দিতে পারেননি।
মাসুম বিল্লাহ্ বলেন, গত রোববার কেন্দ্র থেকে আবার ফোন করে ৩১ জানুয়ারি সম্মেলন করার জন্য বলা হয়েছে, তবে এখনো কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি সম্মেলন করার জন্য।
আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/পিআর