সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে শুক্রবার চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মুসল্লি পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করছেন। চাঁদপুর জেলাধীন হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালীন পীর মাও ইসহাক আরব দেশসমূহের সাথে মিল রেখে মুসলমান ধর্মের দুই উৎসব ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদুল আযহা পালনের নিয়ম চালু করেন।হাজীগঞ্জে যেসব গ্রামে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রাম হলো, হাজীগঞ্জের সাদ্রা, বলাখাল, রামপুর, অলিপুর, রামচন্দ্রপুর, ফরিদগঞ্জের বাশারা, শোল্লা, চৌরাঙ্গা, গড়িয়ানা, মুন্সীরহাট, কাইতাড়া, নুরপুর, মূল পাড়া, বদরপুর, প্রতাপপুর, মহেশপুর, তেলিসাইর, উভারামপুর, সুরঙ্গচাল, সাচনমেঘ, সমেশপুর প্রমূুখ। হাজীগঞ্জে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় সাদ্রা ঈদ গাঁ ময়দানে। এখানে ইমামতিত্ব করেন বড় পীরজাদা আলহাজ্ব আবু জাফর মো. আব্দুল হাই। দ্বিতীয় বৃহত্তর জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে শমেসপুর ঈদ গা ময়দানে। এখানে ইমামতিত্ব করবেন সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা আলহাজ্ব আবু ইয়াহিয়া মো. আক্কাস আল মাদানী।এছাড়া মুন্সির চোরাঈদগাঁ ময়দানে সকাল ১০টায় ঈদের জামায়াত পড়ান মাও. আবু হানিফ ও সকাল সাড়ে ৯টায় মুন্সির বাজার মসজিদে মাও. রহমত উল্যাহ। ঈদ সম্পর্কে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রার বর্তমান পীর সাহেব মাওলানা আবু জুফার মো. আব্দুল হাই জাগো নিউজকে জানান, এ ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে সাদ্রার পীর সাহেবের মাজার প্রাঙ্গনে। তিনি জানান তাদের সাথে দেশের আরো ২৫টি জেলার অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে প্রতি বছরই মাহে রমজানুল মোবিরক, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আযহাসহ ধর্মীয় সকল উৎসব পালন করে থাকেন। আরব বিশ্বসহ পৃথিবীর প্রায় ৬৫টি দেশে পবিত্র পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর শুক্রবার পালিত হচ্ছে। মতলব উত্তর উপজেলার ১৮টি গ্রামে আজ ঈদ-উল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নস্থ পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী, দেওয়ানকান্দি, লতুর্দী, সাতানী ও দক্ষিণ মাথাভাঙ্গার আংশিক, সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের আমিয়াপুর গ্রামের একাংশ, ইসলামবাদ ইউনিয়নের মধ্য ইসলামবাদ গ্রামের একাংশ, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের একাংশ।এছাড়া এখলাছপুর ইউনিয়নের মধ্য এখলাছপুর (বড়ইকান্দি) গ্রামের একাংশ এবং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ফরাজীকান্দি, রামদাশপুর, চরমাছুয়া, হাজিপুর, দক্ষিণ রামপুর, সরকারপাড়া ও ঠাকুরপাড়া গ্রামগুলোর একাংশ মুসলমানরা ঈদ উদযাপন করছে। দেওয়ানকান্দি গ্রামের গিয়াস উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, মোহনপুর ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের মুসলমানরা অনেক বছর ধরেই এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারী হিসেবেই এভাবে সঠিক সময়ে ঈদ উদযাপন করে আসছি।ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আবুল বাশার জাগো নিউজকে জানান, আমরা ঢাকার মদিনার জামাত ত্বরিকার পীর মাওলানা হুমায়ুন কবির খানের অনুসারী। তাই আমরা নিয়ম মতো ঈদ উদযাপন করবো।ইকরাম চৌধুরী/এসএস/এমএস