ঠান্ডা খাবার দেয়ার অপরাধে পঞ্চগড়ে জেলায় এক কারারক্ষীকে মারধর করা হয়েছে বলে জেল সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার বিকেলে জেলা কারাগারের এ ঘটনায় কারারক্ষীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে কারাগারের জেলার মুশফিকুর রহমানের দাবি, ‘এটা নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি’।
স্থানীয় সূত্র ও কারারক্ষী সূত্র জানায়, গত ৬ মাস আগে মানিকগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে নুরশেদ আলম ভূঁইয়া পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেল সুপার হিসেবে যোগ দেন।
যোগদানের পর থেকেই তিনি ছোটখাট বিষয়ে দেহরক্ষী এবং কারারক্ষীদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ কারা অভ্যন্তরে নানা অনিয়ম শুরু করেন।
সেই সঙ্গে তিনি ১০ শয্যার কারা হাসপাতালে অতিরিক্ত হাজতি বা সাজাপ্রাপ্ত আসামি রেখে দেহরক্ষী দিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। দেহরক্ষীরা এমন অনিয়ম করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় গত ৬ মাসে তিনি তার ৫ জন দেহরক্ষী বদলান।
শনিবার দুপুরে ঠান্ডা খাবার সরবরাহের অপরাধে কারারক্ষী হাবিবুর রহমানকে (কারারক্ষী নং ২১৯৮) প্রথমে চড়-থাপ্পড় মারেন জেল সুপার। পরে তাকে মারধরসহ তার পরনের জামা ছিঁড়ে ফেলেন।
এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে কারারক্ষীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। কারারক্ষী হাবিবুর রহমানকে দেহরক্ষী হিসেবে ব্যবহার করছেন জেল সুপার।
কারারক্ষী হাবিবুর রহমান বলেন, সামান্য বিষয়ে জেল সুপার আমাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। শনিবার বিকেলে ঠান্ডা খাবার পরিবেশনের অজুহাতে তিনি আমাকে থাপ্পড় মারেন। পরে আমাকে মারধর করে পরনের জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন।
কারারক্ষী (১৯০৬) বেলাল হোসেন বলেন, জেল সুপার কারা হাসপাতালে অতিরিক্ত হাজতি রেখে নিজের দেহরক্ষী দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। আসামিদের দেখা করার জন্য জন প্রতি ৩৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।
এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও জেল সুপার নুরশেদ আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কারাগারের জেলার মুশফিকুর রহমান বলেন, জেল সুপার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না। আমিই তার সঙ্গে বসে চা খাচ্ছি। তিনি ভালো আছেন।
মোবাইল ফোনে জেলার আরও বলেন, এটা আমাদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। এ নিয়ে লেখার কি আছে, এখন তো সবকিছুর সমাধান হয়ে গেছে।
সফিকুল আলম/এএম/জেআইএম