দেশজুড়ে

সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি ক্যান্টিন

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভেতরে টেন্ডার ছাড়াই বাণিজ্যিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বেসরকারি ক্যান্টিন। রাষ্ট্রীয় এ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ক্যান্টিন নির্মাণের পরিকল্পনা না থাকলেও কীভাবে এটি নির্মাণ হয়েছে এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ ২৫.০৩ একর জমির ওপর নির্মিত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুল মান্নান।

হাসপাতালের প্রায় পৌনে তিন শতাংশ জমির ওপর টেন্ডার ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে বেসরকারি ক্যান্টিন। এর সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট এর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ ২৫.০৩ একর জমির ওপর নির্মিত হয় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল। তৎকালীন সময়ে এ হাসপাতাল নির্মাণের একটি নকশাও প্রস্তুত করা হয়। তবে প্রস্তুতকৃত ওই নকশায় ছিল না কোনো ক্যান্টিন ব্যবস্থা।

টাঙ্গাইল হাসপাতালকে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে অত্যাধুনিক মানের মেডিকেল কলেজে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। এ সত্ত্বেও হাসপাতালের নকশা ও পরিকল্পনা অমান্য করে মোটা টাকার সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ক্যান্টিন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাসপাতালের প্রায় পৌনে তিন শতাংশ জমির ওপর টেন্ডার ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ক্যান্টিন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

ক্যান্টিনের বরাদ্দ নেয়া হাসপাতালে কর্মরত কোষাধ্যক্ষ মজনু মিয়ার নেতৃত্বে ও গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ক্যান্টিনটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

তবে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত জমি দখলের মাধ্যমে ও টেন্ডারবিহীনভাবে কেন বাণিজ্যিক ক্যান্টিন নির্মাণ করা হলো এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানায় স্থানীয়রা।

ক্যান্টিন বরাদ্দ নেয়া হাসাপাতালের কোষাধ্যক্ষ মজনু মিয়া জানান, জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে ও ১০ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণসহ একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ক্যান্টিনটি নির্মিত হয়েছে। এ নির্মাণকাজের তদারকি করেছে গণপূর্ত বিভাগ।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সৈয়দ ইবনে সাঈদ টেন্ডার ব্যতীত এ ক্যান্টিন নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে ও জনস্বার্থে অস্থায়ীভাবে এ ক্যান্টিন নির্মাণ হয়েছে।

টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভুরাম বলেন, এটি গণপূর্ত বিভাগের কোনো কাজ নয়। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে ক্যান্টিনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কল্যাণে অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্যান্টিনটি নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালের ব্যয়ে ক্যান্টিনের নির্মাণকাজ পরিচালিত না হওয়ার ফলে এটি কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আনা হয়নি। তবে কোটেশনের মাধ্যম আর ক্যান্টিনের লভ্যাংশের একটি অংশ হাসপাতাল মসজিদ, রোগী কল্যাণ তহবিলে জমা দেয়াসহ আরও কয়েকটি শর্তে ক্যান্টিনটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/এমএস