একুশে বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি না করা নিয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে কলেজ চত্বরে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। সংর্ঘষের কারণে বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আজিজুল হক কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কলেজ চত্বরে মাসব্যাপী একুশে বই মেলার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনকে। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের নাম অতিথিদের তালিকায় না থাকায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ গ্রুপের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এনিয়ে ছাত্রলীগ কলেজ শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হক বুলবুল সমর্থক নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায় ইটপাটকেল ও লাঠিশোটা নিয়ে উভয় গ্রুপ সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। আধা ঘণ্টাব্যাপী সংর্ঘষ চলাকালে ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে মিথিলা প্রসাদ ও বুলবুল আহম্মেদ নামে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ সংর্ঘষ থামানোর পর কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি বুলবুল গ্রুপের পক্ষে শতাধিক বহিরাগত যুবক লাঠিশোটা নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে মহড়া দেয় এবং বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বহিরাগতদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহাজান আলী জানান, বই মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। জরুরি বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি আজিজুল হক কলেজের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরএআর/আইআই