দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় সেফলা টুডু (৬০) নামে এক আদিবাসীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সেফলা টুডু নবাবগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত জেটু টুডুর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের শ্রীরামপুর আদিবাসী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সেফলা টুডুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে যখম করা হয়। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন রাতেই তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করে।
নিহত সেফলা টুডুর ছেলে বাবু টুডু ও নাইকে টুডু জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সেফলা টুডু বাড়ির পার্শ্ববর্তী সেচ পাম্প পাহারা দেয়ার জন্য মাঠে যান। রাত ১২টার দিকে গ্রামের লোকজন তাদেরকে ডেকে জানায়- প্রতিবেশি মৃত সোনারাম সরেনের ছেলে রিপোন সরেন সেফলা টুডুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে পাম্প ঘরের কাছে ফেলে রেখেছে। তারা এই খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখতে পায় তাদের বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
৯নং কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবুজ মিয়া জানান, নিহত সেফলা টুডুর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত সোনারাম সরেনের বিধবা স্ত্রী গোলাপী মুরমুর অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে সেফলা টুডু জানালা দিয়ে গোলাপী সরেনকে ডাক দেন। যা গোলাপী সরেনের ছেলে রিপোন সরেন শুনতে পান। সে কারণে সেফলা টুডুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে যখম করেন।
নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/পিআর