দেশজুড়ে

জনগণনার প্রতিবেদন প্রকাশ : ভারত যাবে ৭৭৯ জন

ছিটমহল চুক্তির আলোকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অবস্থিত ১৬২টি ছিটমহলের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন পেশ করেছে দু’দেশের জরিপ দল। এতে দেখা যায়, ভারত থেকে বাংলাদেশে কেউ না আসতে চাইলেও বাংলাদেশ থেকে ৭৭৯ জন ভারতে যাওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছে।ভারতের চেংরাবান্ধা ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত প্রায় ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সকালে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ টিমের প্রধান লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে বসবাসকারী ৭৭৯ জন ভারতে ফিরে যাওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। আর ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের কোনো অধিবাসী বাংলাদেশে ফিরবেন না বলে মত দিয়েছেন।৭৭৯ জনের মধ্যে ১৬৩ জন মুসলিম বলে জানান তিনি। ১ আগস্ট থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে যে কোনো সীমান্ত দিয়ে এ সকল ভারতীয় ছিটমহলবাসী ভারতে যেতে পারবেন। এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি কমিটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বৈঠকে বসছে। এ সকল প্রতিবেদন মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কাযালর্য়ে হস্তান্তর করা হয়। লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ভারতের কুচবিহার জেলার চেংরাবান্ধায় যান। বৈঠক চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে দলের অন্য সদস্যরা হলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর সিস্টেম এনালিস্ট যতন কুমার সাহা, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রোগ্রামার এএসএম আহসান কবীর, কুড়িগ্রাম জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরোর ডিডি তাইহিদুল ইসলাম। অপরদিকে ভারতীয় দলের ছয় সদস্যের নেতৃত্ব দেন কুচবিহার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চিরঞ্জিত ঘোষ।৬ জুলাই থেকে দু’দেশের ছিটমহল জরিপ দল ছিটমহলগুলোতে গিয়ে সরেজমিনে যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছিল তারই ধারাবাহিকতায় সোমবারের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।বৈঠকে পেশ করা রিপোর্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকায় জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং কমিটির (জেবিডাব্লিউজি) সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে সাংবাদিকদের জানান বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের হাবিবুর রহমান।বৈঠকে ঢাকা ও দিল্লি­র উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন। হাবিবুর রহমান জানান, গণনাকারীদের দেয়া তথ্যে কিছুটা গরমিল লক্ষ্য করা গেলেও তা দু’দেশের জরিপ দল সংশোধন করেছে। এ রিপোর্ট পেশের মধ্য দিয়ে দু’দেশের ছিটমহলবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফিরে আসা বা পূর্বের স্থানেই বসবাসে আর কোনো বাধা থাকল না।উল্লেখ্য, যৌথ রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের লোকসংখ্যা সাড়ে ১৪ হাজার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের লোকসংখ্যা সাড়ে ৪৪ হাজার।রবিউল হাসান/এসএস/এমএস