কোনো প্রকার ঘটনা ছাড়াই হঠাৎ করে গত পাঁচ দিন ধরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বয়উদ্দিন পাড়ায় অলৌকিক আগুনের ভয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে খোলা মাঠে আশ্রয় নিয়েছে এলাকাবাসী।
গত পাঁচ দিনে ওই গ্রামে মোট ৯ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আগুন কীভাবে লাগছে তা কেউ বলতে পারছেন না।
গ্রামবাসী বলছেন, এটা অলৌকিক ঘটনা। আর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন কেউ গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত করতে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ১৯৯৫ সালে এক দুর্ঘটনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো গ্রামটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাই গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
গত বুধবার দুপুর ১২টায় বয়উদ্দিন পাড়ায় আতিকুর ইসলামে ঘরে প্রথম আগুন দেখে পায় প্রতিবেশীরা। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেশীরা সেই আগুন নিভিয়ে ফেলে। কিন্তু আবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে একই গ্রামের রব্বানি ইসলামের রান্না ঘরে আগুন লাগে। এলাকাবাসী সেই আগুনও নিভিয়ে ফেলে।
সেই দিন আগুন লাগানোকে সেভাবে গুরুত্ব না দিলেও পরের দিন বৃহস্পতিবার আবারও বয়উদ্দিন পাড়ার সিদ্দিকুল রহমানের ঘরে সকাল ৮টায় ও বিকেল ৩টায় আনিসুল ইসলামের গোয়াল ঘরে আগুন লাগে। এ আগুনও স্থানীয়রা নিভিয়ে ফেলে। এরপর থেকেই এ গ্রামে শুরু হয় আগুন আতঙ্ক। আতঙ্কের ফলে দিন রাত ধরে সর্তকতার সঙ্গে গ্রামবাসী ও পাশপাশের মানুষ গ্রাম পাহারা দেয়া অবস্থায় গতকাল শুক্রবার ও রোববার সকাল পর্যন্ত ৫ দফাসহ মোট ৯ বার আগুন লেগেছে গ্রামের ৮ জনের বাড়িতে।
ঠিক কি কারণে গ্রামে বারবার আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটছে তা কেউ বলতে পারছেন না।
বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ গ্রামকে দূর-দুরান্ত থেকে দেখতে ভির জামাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এমনি দৃশ্যের দেখা মেলে গ্রামটিতে সরোজমিনে গিয়ে। সেখানে আগুন নেভানোর জন্য বালতি, হাড়ি পাতিল ও প্লাস্টিকের গামলাসহ বিভিন্ন পাত্রে পানি প্রস্তুত করে রাখতেও দেখা গেছে।
রহস্যজনক এ গ্রামকে দেখতে আসা মানুষ এই ঘটনাকে একেক জন একেক রকম করে আগুন লাগানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অধিকাংশই মনে করছেন অলৌকিক কোনো কারণেই ঘটতে পারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের শিকার বাড়ির মালিক আতিকুর ইসলামের কাছে এর কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঠিক কি কারণে এ রকমটা বারবার ঘটছে তা আমি বুঝতে পারছি না।
এ দিকে আগুন আতঙ্কে এ গ্রামের কিছু পরিবার দু’দিন ধরে খোলা মাঠে বসবাস করছে। গ্রামের পাশের আবাদি জমিতে তবু টানিয়ে রাত কাটাচ্ছেন তারা। এছাড়াও ঘরের সব আসবাবপত্র ও গরু ছাগলকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা মাঠে অবস্থান করছে অনেকেই।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব-উল-ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আগুন লাগার রহস্য উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। এখনও কারণ জানা যায়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা নীলফামারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এনামুল হক জানান, আগুন লাগার প্রকৃত ঘটনা জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে কেউ গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত করার জন্য এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। তা ছাড়া ১৯৯৫ সালে এক দুর্ঘটনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো গ্রামটি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনা মনে করে গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/আরআইপি