দেশজুড়ে

পুলিশ লাইনে বিশুদ্ধ পানির মোবাইল প্ল্যান্ট চালু

পাহাড়ি জনপদে যখন বিশুদ্ধ বা সুপেয় পানির অপ্রতুলতা তখন পার্বত্য খাগড়াছড়ির জেলা পুলিশ লাইনে স্থাপিত হলো ‘মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’।

এ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইনে বসবাসরতের জন্য দীর্ঘদিন পর বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা হলো।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আলী আহমেদ খানের উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। এ প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার লিটার পানি বিশুদ্ধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আলী আহমেদ খান। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান সম্প্রতি প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন।

সরেজমিনে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ঘুরে দেখা যায়, পুলিশ লাইনে বসবাসরত পুলিশ সদস্যরা ট্রিটমেন্ট প্ল্যাট থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন।

একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, এক সময় আমাদের রিজার্ভ ট্যাঙ্কে থেকে সরাসরি খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হতো। ফলে রিজার্ভ ট্যাঙ্কে জমানো অপরিচ্ছন্ন পানি পান করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। এ প্ল্যান্টের ফলে রিজার্ভ ট্যাঙ্কের পানি আর পান করতে হয় না।

পানির বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এভাবে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার লিটার পানি পরিশোধনের মাধ্যমে শতভাগ বিশুদ্ধ করা হয়। তিন ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ হাজার লিটার পানি শোধন করা হয়। মাত্র ৬ লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) খরচ করে পাঁচ হাজার লিটার পানি শোধন করা যায়।

পুলিশের প্রাথমিক চিকিৎসা হাসপাতালের কর্মকর্তা ছানা উল্ল্যাহ বলেন, প্ল্যান্ট হওয়ার আগেও প্রতিদিন পুলিশ সদস্যরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতো। ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিসসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে আসতেন। বর্তমানে ওয়াটার প্ল্যান্টের পানি পান করার পর থেকে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা নেই বললেই চলে।

মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আলী আহমদ খান বলেন, খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইনে জেলার সবচেয়ে বেশি পুলিশ সদস্য থাকার পরও বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বিভিন্ন সময়ে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তোলে। আর সে ভাবনা থেকেই মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠা।

ওয়াটার প্ল্যান্টে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্ল্যান্টের শোধনকৃত পানি বাজারের বোতলজাত পানির তুলনায় অধিকতর বিশুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। প্রচলিত বাজারে এরকম একটি প্ল্যান্ট স্থাপনে প্রায় বিশ লাখ টাকা খরচ হবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় এটা স্থাপনে ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। ‘মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ প্রায় ১৫ বছর টেকসই হবে বলেও জানান জেলা পুলিশের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/এমএস