আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রস্তুতের চারমাস পেরিয়ে গেলেও ঘর বরাদ্দ কিংবা বসবাস শুরু হয়নি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ভূমিহীন মানুষদের মধ্যে। ফলে গজারিয়া গ্রামে নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা যেন-তেনভাবে ব্যবহার করছেন টয়লেটগুলো। এ ছাড়া মাদকসেবীরা নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন সেগুলো।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনা নদীর জেগে ওঠা চরে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার রাস্তাটিও ভেঙে গেছে গত বছরের বন্যায়। ফলে নিচে জমির উপর দিয়ে চলাচল করে মানুষ। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৯০টি ঘরের মধ্যে থাকে মাত্র একটি ভূমিহীন পরিবার। এ ছাড়া পাহারা দেয়ার জন্য দুইজন গ্রামপুলিশ থাকে রাতে।
তালাবদ্ধ না থাকায় উত্তর পাশের একটি টয়লেটের দরজা ভেঙে গেছে। অন্যান্য টয়লেটগুলো স্থানীয়রা যেন-তেনভাবে ব্যবহার করে নোংরা করে রেখেছেন। প্রকল্পের ঘরগুলো তালাবদ্ধ থাকলেও দুইটি ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে মাদকসেবীরা নেশাগ্রহণ করে। ভেতরে পড়ে রয়েছে সিগারেটসহ নেশা জাতীয় অনেক কিছু।
চুরি হওয়ার ভয়ে এই আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৮টি টিউবওয়েল খুলে রাখা হয়েছে। এখানে নেই কোনো সীমানা প্রাচীরও। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির ধাক্কায় ভাঙন থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি রক্ষা করতে নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপও।
উত্তর উল্যা বালুচর গ্রামের আমিনা বেগম ও মমতা বেগম বলেন, নদী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে পরিবার নিয়ে এখন রেললাইনের পাশে একটি ঘর তুলে কষ্ট করে আছি। এই আশ্রয়ন প্রকল্পে একটি ঘর পেলে ভালো হতো। তাদের মতো আরও অনেকেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, রাস্তার ধারে ও খাসজমিতে বসবাস করছেন।
গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম সরকার বলেন, অক্টোবর-নভেম্বর মাসের দিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এখনও এটি উদ্বোধন করা হয়নি। তাই মানুষের বসবাসও শুরু হয়নি। এ মাসেই এটি উদ্বোধন করা হবে। কারা থাকবেন সে তালিকাও করা হয়নি। অনেকে দরখাস্ত জমা দিয়েছেন, সেগুলো বাছাই করে প্রকৃত ভূমিহীনদের ও যারা জমিদান করেছেন তাদেরকে ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল হালিম মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে ঘর বরাদ্দ পাবার জন্য ইউএনও বরাবর আবেদন করতে হবে। ঘর বরাদ্দের জন্য অল্প কিছু আবেদন জমা পড়েছে। ঘর অনুযায়ী আরও আবেদন দরকার। ডেপুটি স্পিকার স্যার আশ্রয়ণ প্রকল্পটি উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে।
রওশন আলম পাপুল/এমএএস/এমএস