দেশজুড়ে

জাতিসংঘে বাংলা চাই আবেদনে কালীগঞ্জে ব্যাপক সাড়া

বাংলাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা করার দাবিতে অনলাইন আবেদনে গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার ব্যস্ততম স্থানগুলোর দেয়ালে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা অনলাইন আবেদন শুরু করেন।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমের আয়োজনে এবং বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপের সহযোগিতায় ‘জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা হোক বাংলা’ এ ক্যাম্পেইন চলছে।

শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পরপরই কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ হোসেন, কালীগঞ্জ পৌর মেয়র মো. লুৎফুর রহমান, থানার ওসি মো. আলম চাঁদ, কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক বিশ্ববিদ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস মিয়া, প্রাণ-আরএফএল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলম আইয়ূব অনলাইনে আবেদন করেন।

ক্যাম্পেইনে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা বাংলার জন্য আবেদন করেন। কেউ আবার পোস্টারে দেয়া ঠিকানায় মোবাইল ফোনে আবেদন করেন।

একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিল্লাল হোসেন বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ দেখার সুযোগ না হলেও জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষার দাবিতে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে ভালো লাগছে।

স্থানীয় সাংবাদিক রফিক সরকার বলেন, অনলাইনে এ ক্যাম্পেইন অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। জাগো নিউজের এ উদ্যোগ সবার মাঝে অালোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কালীগঞ্জ আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞানের শিক্ষক নূর মহল বলেন, ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়ে বাঙালির ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষার জন্য ভোট দিচ্ছি। দেশপ্রেমে নিবেদিত হয়ে এমন একটি উদ্যোগের জন্য জাগো নিউজ ও প্রাণকে অভিনন্দন।

বাংলাদেশ স্কাউট কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার কমিশনার ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার দাস বলেন, আমার একটি ভোটে যদি বাংলা জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা পায়, তবে সেটা থেকে কেন নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখব? কেন আমি তাতে সমর্থন দেব না। তাই যখনই আমাকে জানানো হয়েছে আমি ভোট ক্যাম্পেইনে ছুটে এসেছি এবং ভোট দিয়েছি।

কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, ভাষার আন্দোলন, আত্মত্যাগের ইতিহাস একমাত্র বাংলাদেশেরই। তাই বাংলাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠার এ আয়োজন অনন্য দৃষ্টান্ত।

কালীগঞ্জ পৌর মেয়র মো. লুৎফুর রহমান বলেন, শুক্রবার অনলাইনে ভোট দিয়েছি। নিজে ভোট দেয়ার পর স্থানীয়দেরকে বাংলার পক্ষে ভোট দিতে পরামর্শ দিচ্ছি।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, বাংলা ভাষার জন্য এদেশের ভাইয়েরা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন। আর আমরা অনলাইনে বাংলাকে ৭ম দাপ্তরিক ভাষার জন্য একটি ভোট না দিলে নিজের কাছে নিজে দায়ী থাকব।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, বাংলা ভাষার জন্য এমন একটি ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। এ কর্মসূচি সফল হোক এবং আলোর মুখ দেখুক এটাই প্রত্যাশা।

আব্দুর রহমান আরমান/আরএআর/আইআই/এমআরএম