দেশজুড়ে

আধা কিলোমিটার সড়কে চরম ভোগান্তি

বারকোনা-আমদিরপাড়া কাঁচা সড়কের গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বাদিনারপাড়া গ্রামে বাঙালি নদীর সেতু সংলগ্ন একটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার দেড়মাস পেরিয়ে গেলেও মেরামত করা হয়নি।

এছাড়া প্রায় আধা কিলোমিটার এ সড়কটি পাকা না হওয়ায় ধুলার কারণে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। ফলে প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী প্রায় ৫ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদিনারপাড়া গ্রামে দেড় মাস আগে মাটিবোঝাই একটি ট্রাক্টর চলাচলের সময় কালভার্টের দক্ষিণ পাশের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকে চলাচলে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষ করে অন্ধকার রাত্রিতে ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাটের দিন চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, সাইকেলসহ অন্যান্য উপকরণ আনা-নেয়ার সময় বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধা-বোনারপাড়া-জুমারবাড়ী সড়কের বারকোনা বাজার থেকে পূর্ব দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার একটি কাঁচা রাস্তা গেছে বাদিনারপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত। কাঁচা রাস্তাটির বারকোনা বাজার সংলগ্ন বাঙালি নদীর সেতু সংলগ্ন একটি কালভার্টের দক্ষিণ পাশের অংশ ভাঙা। আর পুরো কাঁচা রাস্তাটি ধুলায় ভরা। এই রাস্তায় মোটরসাইকেল চলাচলের সময় বাতাসে উড়ে যাওয়া ধুলায় বিপাকে ফেলছে মানুষকে।

রাস্তা ও কালভার্টের ওপর দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষক আবুল মোমেন বলেন, প্রতিদিন এ সড়কের ওপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। যানবাহন চলাচলের কারণে দিন দিন কালভার্টের অংশ আরও ভেঙে যাচ্ছে। ফলে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, ভাঙা কালভার্ট ও কাঁচা রাস্তার কারণে মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ভাঙা কালভার্টের মেরামত ও রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য এক মাস আগে উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন সামনে এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) অর্থায়নে রাস্তা ও কালভার্টের কাজ করে দেবেন।

সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এরপর আমাদের লোক গিয়ে পরিদর্শন করে এসেছে। ভাঙা কালভার্ট মেরামত ও রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে টেন্ডারের মাধ্যমে কালভার্টের মেরামত ও রাস্তাটি পাকাকরণ করা হবে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল কুমার ঘোষ জাগো নিউজকে বলেন, ভাঙা কালভার্টের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। স্থানীয়রা ভাঙা কালভার্টটি মেরামত ও রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত দিলে বিষয়টি গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রওশন আলম পাপুল/এএম/এমএস