কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন শতাধিক একর সংরক্ষিত বনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অন্তত ৫০টি স্থানে এক সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে এ আগুন দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে লাগা আগুন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন।
তিনি জানান, দুপুরের দিকে বনকর্মীরা অন্য এলাকার বনে কাজ করছিলেন। এ সময় টেকনাফ পৌরসভার পশ্চিমে নূর আহমেদ গুনা থেকে নাইট্যংপাড়া ও মাঠপাড়া এলাকার পাহাড়ি বনে আগুন লাগার খবর আসে। উপজেলা প্রশাসন ও দমকল বাহিনীকে খবর দিয়ে বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ১২০ একর বনের ৪০-৫০টি স্থানে আগুন দেয়া হয়েছে। এটি দেখে মনে হয়েছে আগুন লাগানোর ঘটনাটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
সাজ্জাদ হোসেন আরও জানান, সংরক্ষিত বনের সীমানা যেখান থেকে শুরু সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। নূর আহমেদ গুনা থেকে নাইট্যংপাড়া ও মাঠপাড়া এলাকার পাহাড়ি বনে প্রায় ৯০ একর জমিতে ২০১৪-২০১৫ ও ২০১৫-২০১৬ সালে সৃজন করা সামাজিক বনায়ন রয়েছে। বনবিভাগের হিসাবে এতে প্রায় ৯০ হাজার চারাগাছ থাকার কথা। তপ্ত রোদ ও বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত এক জায়গা থেকে অপর জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাজার হাজার গাছপালা, সবজিখেত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় আড়াই মাইল এলাকাজুড়ে আগুনের লেলিহান শিখায় ৯০ হাজার চারাগাছের বেশ কিছু অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দমকল বাহিনী, বনকর্মী ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী এবং স্থানীয়রা প্রচেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, পায়ে হেঁটে পাহাড় পেরিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে একটু সময় ক্ষেপণ হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের দু'টি গাড়ি ওই এলাকায় পৌঁছালেও দুর্গম পাহাড়ে উঠতে না পারায় আগুন নেভাতে সমস্যা হয়েছে।
টেকনাফ ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা কিরিতি বড়ুয়া বলেন, পাহাড়ে আগুন লাগার খবর পাবার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। স্থানীয় ও বনকর্মীদের সহায়তায় তারা আগুন নেভাতে শুরু করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, কারা আগুন দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হঠাৎ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় লোকালয়ের কিছু অঞ্চল ঝুঁকিতে ছিল।
টেকনাফ থানার ওসি রনজিত বড়ুয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় হোসেন আলী বইল্যা (৩২) নামে এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়। বইল্যা নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘ই’ ব্লকের আব্দুস সালামের ছেলে। এ ঘটনায় আব্দুল রাজ্জাক ও আব্দুস সালাম নামে দুইজনকে আটক করা হয়। নিহত এবং আটকরা রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাতের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় তাজা গুলি।
পুলিশের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পাশের পাহাড়ে পালিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ অভিযানে গেলে হাকিম ডাকাতের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ অর্ধসহস্রাধিক স্থানীয় লোকজন পুলিশের সঙ্গে পাহাড়ে ঢুকে। তবে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ধরা সম্ভব হয়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে- ক্ষিপ্ত হয়ে হাকিম ডাকাতের অনুসারীরা বনে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে। বন বিভাগের পাশাপাশি পুলিশও এর কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম