কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা চারাবটতলী এলাকার মৌলভী মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুপ। একটি মামলায় পরোয়ানার কারণে গত বছরের ৮ অক্টোবর কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। সেই মামলায় দীর্ঘ ৭ মাস কারাভোগের পর গত ৮ মার্চ কক্সবাজার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান। মামলার জামিননামার কাগজ ও অন্যান্য মামলা প্রত্যাহারের যাবতীয় কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়ার পর ১১ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কারাগার থেকে মুক্তিও পান ইউছুপ। জেলগেটে তাকে আনতে যান ভাই ইমাম শরীফ। কিন্তু তিনি ভাইকে গ্রহণ করার আগেই কারাফটকে অপেক্ষমান একটি কালো মাইক্রোবাসে করে অস্ত্রধারী কিছু লোক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। দু’দিন পর তাকে চকরিয়া থানায় অস্ত্র দিয়ে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার বিকেলে চকরিয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কারান্তরীণ ইউছুপের স্ত্রী ইরান আক্তার লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করেছেন।
ইরান আক্তার তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করেন, তারা দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ। চকরিয়ার চিংড়ি জোন এলাকায় বাসাবাড়ি হওয়াটায় তাদের কাল হয়েছে। নানা গ্রুপের রাজনীতিতে আটকে গেছে তাদের জীবনচক্র। এভাবে নামে বেনামে মামলায় আসামি হয়ে স্বাভাবিক জীবনে কালিমা এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ১১ মার্চ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা উঠিয়ে নেয়ার পর সারারাত ইউসুপকে সবখানে খোঁজ করা হয়। কিন্তু কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরের দিন ১২ মার্চ জানতে পারি ইউসুপকে চকরিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আর চকরিয়া থানা পুলিশ জামিন পেয়ে বাড়িতে বা এলাকায় না আসা সেই ব্যক্তিকে ১৩ মার্চ ছাইরাখালীর একটি ঘটনায় ইউসুপকে জড়িত দেখিয়ে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে পুনরায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ৭ মাস কারান্তরীণ থাকায় সন্তানদের নিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তাই এসব ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি কারাগারে ছিলেন কিনা জানি না। আমরা ১২ মার্চ রাতে চিংড়ি ঘের এলাকার জঙ্গল থেকে তাকে গ্রেফতার করেছিলাম। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েক রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে আরও কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/আরআইপি