কক্সবাজারে পাহাড় কাটারত অবস্থায় ৬ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার বিকেলে শহরের বাইপাস সড়কের উত্তরণ হাউজিংয়ের পাশের গলি কাটাপাহাড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
সাজাপ্রাপ্তদের মাঝে দুইজনকে সরকারি পাহাড় দখল ও কর্তনকারী হিসেবে শনাক্তের পর ২ বছর করে কারাদণ্ড ও বাকি ৪ শ্রমিককে ৫০ টাকা করে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় পাহাড় কাটার নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতর ও সদর উপজেলা পরিষদ যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উত্তরণ হাউজিংয়ের পাশের গলি কাটাপাহাড় এলাকার খোরশেদুল আলম (৩৮) ও মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (৪৬)।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারস্থ সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, বাইপাস সড়কের উত্তরণ হাউজিংয়ের পাশের গলি কাটাপাহাড় এলাকায় সরকারি খাস পাহাড় কেটে জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। ছয়জনের মাঝে দুইজন পাহাড় কাটাসহ খাস জমি দখলে যুক্ত বাকিরা দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
অভিযানকালে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত ৫টি বেলচা, ৬টি কোদাল, ৭টি শাবল, ২টি ট্রলি ও ৭টি টুকরি জব্দ করা হয়। মোবাইল কোর্ট অভিযানে প্রসিকউিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুমিনুল ইসলাম।
কক্সবাজার সদর ইউএনও মো. নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, প্রাকৃতিকভাবে কক্সবাজারের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়ি। মানুষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে মানুষ নির্বিচারে পাহাড় কেটে বসতি গড়ছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে দিন দিন। পাহাড়ের প্রকৃতি পরিবর্তন না করে কিভাবে বসতি স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে পাহাড়ে অবস্থানকারীদের সচেতন করার উদ্যোগ চলছে।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি