কক্সবাজার সরকারি কলেজে বিরোধপূর্ণ জমিতে রাস্তা নির্মাণ চেষ্টা ও পরবর্তীতে তা প্রশাসন কর্তৃক স্থগিত করার জেরে সোমবার কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার একদিনপর লিখিত বিবৃতি দিয়েছে কলেজ প্রশাসন এবং বিসিএস শিক্ষা সমিতি। এতে ঘটনায় ছাত্রলীগ নামধারী উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র এবং বহিরাগতরা তাণ্ডব চালিয়েছে বলে দাবি করে তাদের শাস্তিও চাওয়া হয়েছে।
শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ মার্চ কক্সবাজার সরকারি কলেজের পার্শ্ববর্তী ভূমিদস্যু কর্তৃক লেলিয়ে দেয়া কিছু ছাত্রলীগ নামধারী উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও বহিরাগত যুবক কক্সবাজার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং আটককৃত ভূমিদস্যুদের মুক্তির দাবি জানায়। এ সময় তারা অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সাধারণ শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভূমিদস্যু কর্তৃক লেলিয়েে দেয়া উচ্ছৃঙ্খল বখাটেদের বর্বরোচিত হামলার জন্য কক্সবাজার সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কলেজের মূল্যবান সম্পত্তি রক্ষাসহ শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে।
এদিকে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সম্পাদক ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের পদার্থ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ মার্চ কক্সবাজার সরকারি কলেজের পাশে ভূমিদস্যুদের লেলিয়ে দেয়া ছাত্রলীগ নামধারী কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও বহিরাগত বখাটে কর্তৃক কক্সবাজার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর ও অধ্যক্ষসহ শিক্ষকগণের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি, কক্সবাজার জেলা ইউনিট। এরূপ বর্বরোচিত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সম্পাদক ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের পদার্থ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম বলেন, হামলাকারীরা ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে শনাক্ত আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদামতো তা সরবরাহ করা হয়েছে। তাদের (পুলিশের) প্রক্রিয়ার দিকে চেয়ে আছে কলেজ প্রশাসন।
তবে সোমবারের ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে কক্সবাজার কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আন্দোলনে কোনো বহিরাগত ছিল না। সবাই কলেজের শিক্ষার্থী। হয়তো কয়েকজন ছাত্রলীগের কর্মী এতে ছিল। এখানে কোনো শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়নি। তবে তারাই গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষের রুমে তালা ভেঙে উদ্ধার করেন বলে স্বীকার করেন।
কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, আমরা ঘটনাটি খতিয়ে দেখে সুষ্ঠু সুরাহার চেষ্টা চালাচ্ছি। কলেজ ক্যাম্পাসে আর যেন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি না ঘটে তাও নজরে রাখা হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস