দেশজুড়ে

স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তারা

শুধু পুরুষ নয়, নারীরাও সমানতালে ভূমিকা রাখছেন কৃষিতে। স্বপ্ন দেখছেন নিজেরা, দেখাচ্ছেন আশপাশের নারীদেরও। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমিতি করে কৃষি খামার প্রতিষ্ঠা করেছেন হবিগঞ্জের ২৫ প্রান্তিক বেকার নারী। খামারে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষ করেছেন তারা। পাচ্ছেন ব্যাপক সফলতাও।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ২৫ জন প্রান্তিক নারী সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা (আইপিএম) ক্লাব নামে একটি সংগঠন করেন। তারা সেখানে জনপ্রতি প্রতিমাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করেন। একই বছর ওই টাকা পুঁজি করে বাড়ির আঙিনা ও খোয়াই নদীর চরে সবজির আবাদ শুরু করেন। শুরু থেকেই ব্যাপক সফলতা পান তারা। আর এতে তাদের উৎসাহও বাড়তে থাকে।

এখন নদীচরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তারা সবজির আবাদ করছেন। এ বছর আবাদ করেছেন ১০ হেক্টর (৭৫ বিঘা) জমিতে। তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বিঘা প্রতি ৬ মেট্রিকটন ধরা হয়েছে। এ বছর তারা চাষ করেছেন মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও লালশাক। এসব সবজি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদনের জন্য বিশেষ ধরনের ফেরোমনা ফাঁদ ব্যবহার করছেন তারা। তাদের পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ দিনে দিনে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে।

উৎপাদিত এসব সবজি দিয়ে শুধু নিজেদের পরিবারের চাহিদাই নয়, তারা জেলার সবজির চাহিদা পূরণেও রাখছেন অবদান। স্থানীয়ভাবে তাদের এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

সমিতির সদস্য রুবি আক্তার জানান, কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করছেন। যা নিজেরা খান আবার বাজারেও বিক্রি করেন। উপার্জনও কম হয় না। এ থেকে তাদের সংসারের খরচ যোগান হয়।

তিনি বলেন, আমরা কীটনাশকের পরিবর্তে পোকা দমনে এক ধরনের ফাঁদ পেতে রাখি। সেখানে একটি পাত্রে স্ত্রী পোকার ঘ্রাণযুক্ত কীটনাশক দেয়া থাকে। এ ঘ্রাণ পেয়ে পুরুষ পোকা এসে পানিতে পড়ে মারা যায়। ফলে পোকার আর বিস্তার ঘটে না। এতে পোকাও দমন হয়, ফসলও বিষমুক্ত থাকে।

সমিতির সভাপতি নাহার বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সবজির চাষ করছেন। শুরুতে তারা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। কিন্তু এখন বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নেয়ার পর থেকে অনেক লাভবান হচ্ছেন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসমা আক্তার জানান, এখানে ২৫ জন নারী উদ্যোক্তা বিষমুক্ত সবজি আবাদ করছেন। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করে থাকি।

এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/পিআর